
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ির মধ্যেও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইউরিয়া সার আমদানি অব্যাহত রয়েছে। দেশটির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফার্টিগ্লোবের জাহাজ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বাংলাদেশে সার পৌঁছে দিচ্ছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব থেকে লোহিত সাগর হয়ে বিকল্প পথে ইউরিয়া আমদানি করছে বাংলাদেশ। ফলে আপাতত সার আমদানিতে কোনো ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)।
বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, আরব আমিরাত থেকে আসা একটি জাহাজে ৪৪ হাজার টন ইউরিয়া মোংলা বন্দরে খালাস করা হয়েছে। আরেকটি জাহাজে ৪৫ হাজার ৯০০ টন ইউরিয়া রয়েছে, যা ২৪ অক্টোবর নাগাদ বন্দরে পৌঁছানোর কথা। এ পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে চুক্তির আওতায় দুটি জাহাজে দুই লট ইউরিয়া দেশে এসেছে। চলতি মাসে আরও দুটি জাহাজ বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
চলতি ক্যালেন্ডার বছরে আরব আমিরাতের সঙ্গে সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে ৩ লাখ ৬০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির চুক্তি রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার টন নিশ্চিতভাবে কেনার চুক্তি রয়েছে। বাকি ২ লাখ টন ঐচ্ছিক চুক্তির আওতায়, যা প্রয়োজন অনুযায়ী কেনা হবে। ফার্টিগ্লোবের জাহাজে পরিবহন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হলেও জাতীয় স্বার্থে এভাবে সার আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিসিআইসির এক কর্মকর্তা।
এদিকে, চলতি অর্থবছরে সৌদি আরবের সঙ্গে ৫ লাখ ২০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির জিটুজি চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার টন নিশ্চিতভাবে কেনার এবং ২ লাখ টন ঐচ্ছিক চুক্তির আওতায় রয়েছে।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার পর সৌদি প্রতিষ্ঠান স্যাবিক এগ্রো নিউট্রিয়েন্টস দুই দফায় ইউরিয়া সরবরাহের বন্দর পরিবর্তন করেছে। আগে আল-জুবাইল বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে সার আনা হতো। পরে ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে নিওম বন্দর দিয়ে আমদানি কার্যক্রম চলছে। এ পথে সার লোহিত সাগর হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
বিসিআইসির পরিচালক (বাণিজ্যিক, উৎপাদন ও গবেষণা) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ইউরিয়া নিয়ে সংকটের কিছু নেই। আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব হরমুজ পার করে ইউরিয়া পৌঁছে দিচ্ছে। সৌদি আরবের সঙ্গেও যোগাযোগ হচ্ছে নিয়মিত। হুথিদের হামলায় সার আমদানিতে প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।’
তিনি জানান, চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া নিয়ে দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আরও দুটি জাহাজে সার তোলার কাজ চলছে। সেপ্টেম্বরে দুটি জাহাজ দেশে এসেছে। সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে এবং তারা সার সরবরাহের বিষয়ে ইতিবাচক। এ কারণে আপাতত ইউরিয়া আমদানিতে কোনো ঝুঁকি দেখছে না বিসিআইসি। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কী হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।