
লালমনিরহাটে টানা কয়েকদিনের বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে এর সঙ্গে ভেসে উঠছে ভয়াবহ ক্ষতির চিত্র। রোপা আমনের খেত পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিস্তা পাড়ের কৃষকরা।
গত সোমবার রাতে ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলে জেলার পাঁচটি উপজেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। টানা তিন দিনের বন্যায় অন্তত ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। ডুবে যায় হাজারো একর ফসলি জমি, পুকুরের মাছ ভেসে যায় পানির তোড়ে। বিশেষ করে আমন খেত ও বীজতলা ডুবে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) থেকে পানি নামতে শুরু করলে স্পষ্ট হতে থাকে বন্যার ক্ষত।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, একের পর এক বন্যায় বারবার রোপিত আমনের চারা নষ্ট হয়েছে। অধিকাংশ জমি এখন খালি পড়ে আছে, কিছু খেতে চারা থাকলেও প্রচণ্ড রোদে তা পচে যাচ্ছে। নতুন করে রোপণের জন্য চারা নেই কৃষকদের হাতে। ফলে ফসল উৎপাদন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
গোকুন্ডা ইউনিয়নের কৃষক শহীদ মিয়া বলেন, “একবার বন্যায় নষ্ট হওয়ার পর দ্বিতীয়বার চারা রোপণ করেছিলাম, সেটাও ডুবে নষ্ট হলো। এখন নতুন করে চারা কেনার সামর্থ্য নেই। পরিবারের জন্য কী খাবার ফলাব, জানি না।”
আদিতমারীর কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, “বন্যা আমাদের সর্বনাশ করেছে। বারবার ফসল ডোবে, তবুও আমরা ন্যায্য দাম পাই না। এবারের বন্যায় সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটবে, তা অনিশ্চিত।”
এদিকে, বন্যার পানি কমে ঘরে ফেরার পরও দুর্ভোগ কাটেনি দুর্গতদের। ঘরবাড়ি মেরামত, আবর্জনা পরিষ্কার ও সাপ-পোকামাকড়ের উৎপাত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যালয়ের মাঠ, পাঠদান কক্ষ ও আসবাবপত্রও।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসাবে, তৃতীয় দফার বন্যায় জেলায় ৯১৫ হেক্টর আমন জমি ও ৬৩ হেক্টর জমির অন্যান্য ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, ক্ষতির পরিমাণ সামান্য এবং এখনো আমনের চারা রোপণের সময় আছে। কিন্তু স্থানীয় কৃষকরা এ তথ্য মানতে নারাজ। তাদের মতে, ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।
হাতীবান্ধার ডাউয়াবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, “কৃষি ক্ষতির পাশাপাশি নদীভাঙনে অন্তত ২০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও অনেক আবাদি জমি ঝুঁকিতে আছে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, নদীর পানি কমে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নদী ভাঙনের ঝুঁকি রয়ে গেছে। এজন্য নদীপাড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।