
রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে, সঙ্গে নদীর ভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সতর্কতা জারি করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র জানায়, বুধবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা পরিমাপ করা হয় ১৭.৪৯ মিটার। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টায় এই উচ্চতা ছিল ১৭.৪৬ মিটার। রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার বিপদসীমা ১৮.৫ মিটার, অর্থাৎ বর্তমানে পানি বিপদসীমার মাত্র ৫৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে রাজশাহী শহরের তীরবর্তী এলাকা ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নগরীর ওপারে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন চরখিদিরপুর ও খানপুরের বেশির ভাগ অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। শহরের তালাইমারী, কাজলা, পঞ্চবটি, পাঠানপাড়া, লালনশাহ মঞ্চ, শ্রীরামপুরসহ অন্যান্য নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। শতাধিক পরিবার রাজশাহীর বাঁধের পাশে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন।
নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, বর্ষার শুরু থেকেই পদ্মার পানি ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। বিপদসীমার কাছাকাছি পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং স্রোতের তীব্রতা বেড়ে গেছে। ধীরে ধীরে পানির নিচে চলে যাচ্ছে বালুচর। সদর, গোদাগাড়ী, চারঘাট, বাঘা ও কিছু চরাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে। বাসিন্দারা বসতভিটা ও কৃষিজমি নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, গত ১২ ঘণ্টায় রাজশাহী পয়েন্টে পানি ৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, পানি বিপদসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং আগামীকাল আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে পরে কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় থাকবে। পানি বৃদ্ধির কারণে টি-বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে এবং পানি স্তর ও ভাঙনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পূর্বের রেকর্ড অনুযায়ী, ২৪ জুলাই পানি বেড়ে ১৬.৩৫ মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এরপর কিছুটা কমে আবার ৭ আগস্ট ২৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়। তারপর থেকে পানি বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, বাঁধ মজবুত করা এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।