ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৩ নভেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

রাজধানীতে ‘লকডাউন’ কর্মসূচি:

যানজট নয়, গাড়ির অভাবের কারণে নগরজীবন স্থবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ১৩, ২০২৫ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ । ২২২ জন

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রভাবে রাজধানীজুড়ে আজ যানবাহন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকেই ঢাকার প্রধান সড়কগুলো ফাঁকা, গণপরিবহন সীমিত, এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ও রাইডশেয়ারিং যানও কম দেখা গেছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা শঙ্কায় সাধারণ মানুষ, অফিসগামী কর্মী ও শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

সকাল থেকে ফার্মগেট, শাহবাগ, মতিঝিল, গুলিস্তান, মগবাজার, সায়েন্সল্যাব, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা— সব জায়গাতেই বাস বা অন্যান্য গণপরিবহন ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ কম। যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, এবং অনেকে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন। সিএনজি ও মোটরবাইকের ভাড়া দ্বিগুণ বৃদ্ধিও লক্ষ্য করা গেছে।

পরিবহন মালিক ও চালকরা জানান, রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় গাড়ি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে রাজধানী ও আন্তঃজেলায় যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গুলিস্তান, ফার্মগেট, কাকরাইল, শাহবাগ ও কারওয়ানবাজারের রাস্তায় মূলত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোড়ে মোড়ে টহল জোরদার করেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও উপস্থিতি অর্ধেকের নিচে। ব্যাংক কর্মকর্তা ও কলেজ শিক্ষার্থীরা বাস না পেয়ে পায়ে হেঁটেই অফিস ও কলেজে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন। বারডেমে চিকিৎসাধীন রোগীরা জানিয়েছেন, রাস্তায় সরাসরি ঝামেলা না থাকলেও সারাক্ষণ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘোষণার দিন ঘিরে আওয়ামী লীগের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘লকডাউন’ কর্মসূচি দেওয়া হয়। এর পর বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কর্মীদের ঝটিকা মিছিল, টায়ার পোড়ানো ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েকদিনে ঢাকায় বিভিন্ন বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে নগরজীবনে স্থবিরতা সৃষ্টি করছে। গণপরিবহন ব্যবস্থার এই ধস শহরের অর্থনীতি ও কর্মজীবী মানুষের উৎপাদনশীলতায় মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।