
যশোরে শীতের দাপট আরও বেড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ রূপ নিয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে। দু’দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা আরও কমে যাওয়ায় হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় গোপালগঞ্জে, ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে যশোরেও শীতের তীব্রতা কোনো অংশে কম নয়। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল বাতাসে জেঁকে বসেছে শীত।
যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, পৌষ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই যশোরাঞ্চলে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে যায়। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) যশোরে তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে, যা ওইদিন দেশের সর্বনিম্ন ছিল। এর আগের দিনও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল যশোরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস জানায়, গত কয়েকদিন তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও সূর্যের দেখা না মেলায় কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসে শীতের অনুভূতি আরও বেড়েছে। বর্তমানে যশোরাঞ্চলের ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নামলে সেটিকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। সেই হিসাবে যশোরে এখন মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে।
প্রচণ্ড শীতে যশোরে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মোটা জ্যাকেট, মাফলার ও গরম কাপড়ে জবুথবু হয়ে মানুষ চলাচল করছে। অনেকেই শীতের কারণে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
তবে শ্রমজীবী মানুষের ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। যশোর শহরের লালদীঘি পাড় এলাকায় প্রতিদিন যেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ শ্রমিক কাজের আশায় জড়ো হতেন, সেখানে এখন সেই সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। শীতের পাশাপাশি কাজের সংকটে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
শহরের খড়কি এলাকার নির্মাণ শ্রমিক রুহুল আমিন বলেন, “শীতে বাইরে থাকা খুব কষ্টের। তবুও কাজের আশায় বের হতে হয়। কিন্তু কাজ মিলছে না।”
উপশহর এলাকার রিকশাচালক আলী হোসেন জানান, শীতের কারণে মানুষ কম বের হওয়ায় যাত্রীও কমে গেছে, ফলে আয়-রোজগার মারাত্মকভাবে কমেছে।
শুধু মানুষ নয়, এই হাড় কাঁপানো শীতে পশুপাখিরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় প্রাণিকুলের স্বাভাবিক জীবনও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।