
রাজধানীর মেট্রোরেলে যাত্রীদের জন্য চালু হয়েছে নতুন নিয়ম। এখন থেকে কোনো যাত্রী স্টেশনে প্রবেশ করে কার্ড স্ক্যান করার পর যদি মেট্রোরেলে ভ্রমণ না করেন, তবুও তাকে ১০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। গত সোমবার (২০ অক্টোবর) থেকে নিয়মটি কার্যকর করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
নতুন নিয়মটি জানিয়ে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে নোটিশ টাঙানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, “সম্মানিত যাত্রী সাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বর্তমানে একই স্টেশনে বিনা ভাড়ায় এন্ট্রি-এক্সিট বন্ধ আছে। একই স্টেশনে এন্ট্রি করে এক্সিট করলে ১০০ টাকা ভাড়া কাটা হবে।”
অর্থাৎ, কোনো যাত্রী যদি একই স্টেশনে প্রবেশের পর কোনো কারণে ট্রেনে না চড়ে আবার বের হয়ে যান, তাহলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার কার্ড থেকে ১০০ টাকা কর্তন হবে।
কারওয়ান বাজার স্টেশনের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, “এখন থেকে স্টেশনের ভেতর দিয়ে ফ্রি এন্ট্রি বা এক্সিট নেওয়া যাবে না। সোমবার থেকে নিয়মটি কার্যকর হয়েছে।”
তবে ডিএমটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি নতুন এই নিয়ম সম্পর্কে অবগত নন। তিনি বলেন, “আমরা এখন মেট্রোরেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।”
নতুন এই নিয়মে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক যাত্রী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘ঢাকা মেট্রোরেল হেল্পলাইন’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে এ সংক্রান্ত একটি পোস্টে তিন হাজারের বেশি মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
যাত্রীদের একাংশ বলছেন, জরুরি প্রয়োজনে কেউ যদি প্রবেশের পরপরই স্টেশন থেকে বের হতে চান, বা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন, তার ক্ষেত্রেও ১০০ টাকা কাটা অন্যায়। তাদের মতে, যদি ভাড়া ফাঁকি রোধই উদ্দেশ্য হয়, তাহলে ন্যূনতম ভাড়া কেটে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সবার ক্ষেত্রে সমান হারে ১০০ টাকা কাটা অযৌক্তিক ও জনবিরোধী সিদ্ধান্ত।
যাত্রীরা মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, নিয়মটি পুনর্বিবেচনা করে যাত্রীবান্ধব নীতি গ্রহণ করতে। তাদের দাবি, জরুরি পরিস্থিতি বা অনিবার্য কারণে স্টেশন থেকে বের হলে ছাড় বা আংশিক ভাড়া কাটার ব্যবস্থা রাখা উচিত।