
বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (বাস্থই) আয়োজিত ‘ভূমিকম্প: বাস্তবতা, ধারণা ও সচেতনতার কৌশল’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্পকে কেন্দ্র করে অযথা আতঙ্ক না ছড়িয়ে বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি ও সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার আয়োজিত এ আলোচনায় স্থপতি, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ ও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভাটির সভাপতিত্ব করেন বাস্থই-এর সভাপতি স্থপতি অধ্যাপক ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ। আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, সঠিক নীতিমালা প্রয়োগ, ভবন নির্মাণে তদারকি এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত কাজই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে পারে।
বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. শামীম জেড বসুনিয়া বলেন, অভিজ্ঞ স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়াররা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে ভবনের নিরাপত্তা বাড়ে। তাড়াহুড়ো বা আতঙ্কিত হওয়ার পরিবর্তে ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধ সম্ভব না হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও তদারকির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়। ভবন অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ঘাটতির বিষয়টিকে তিনি উদ্বেগজনক উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ, গ্যাস লিকেজ রোধ, ভুল নির্মাণ চিহ্নিতকরণ, রেগুলেটরি অথরিটি গঠন, ব্লক ডেভেলপমেন্ট এবং টিডিআর বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন।
ড. রাকিব আহসান বলেন, সব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ভূমিকম্প-সহনশীল ডিজাইনে দক্ষ নন। এজন্য স্থপতি ও প্রকৌশলীদের যৌথভাবে কাজ করা এবং সিপিডি ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইএবি-এর সাবেক সভাপতি স্থপতি কাজী গোলাম নাসির সতর্ক করেন, অ-বৈজ্ঞানিক উপায়ে ভূমিকম্প পূর্বাভাস দিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা ঠিক নয়। বরং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত, জরুরি যাতায়াতের জন্য সড়ক সম্প্রসারণ, সরকারি ভবন সংস্কার, আসবাবপত্র সুরক্ষিত রাখা, মাটির পরীক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি বহির্গমনপথ চিহ্নিত করার মতো বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
সভাপতি ড. আবু সাঈদ এম আহমেদ বলেন, পোস্ট-ডিজাস্টার কাজকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে নির্দিষ্ট সুপারিশ দেওয়া সম্ভব হবে। দেশের নিরাপত্তা ও সবার জন্য টেকসই বাঁচার পথ গড়ে তুলতেই এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা একমত হন-ভূমিকম্প নিয়ে ভুল ধারণা দূর করতে হবে, এবং দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় জনসচেতনতা ও পূর্বপ্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।