
জেনেভায় চলমান বৈশ্বিক প্লাস্টিক চুক্তির আলোচনার মধ্যে গ্রিনপিসের পরিবেশকর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। জাতিসংঘ অফিস প্যালেস ডেস নেশনসের প্রবেশপথে তাঁরা কালো রঙে একটি প্রতীকী “তেলের রাস্তা” তৈরি করেন এবং বিশাল ব্যানার উড়িয়ে দাবি জানান—বৈশ্বিক চুক্তি যেন জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের স্বার্থে নয়, বরং পৃথিবী ও মানুষের স্বার্থে হয়।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, জার্মানি, ফ্রান্সসহ দশটি দেশের ২২ জন গ্রিনপিস কর্মী অংশগ্রহণ করেন। তাঁদের ব্যানারে লেখা ছিল—“গ্লোবাল প্লাস্টিক চুক্তি বিক্রির জন্য নয়” এবং “ফসিল লবিস্টদের জাতিসংঘ থেকে বহিষ্কার করুন”।
গ্রিনপিস ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রতিনিধিদলের প্রধান গ্রাহাম ফোর্বস বলেন, “প্রতিটি দফা আলোচনায় আরও বেশি করে তেল ও গ্যাস লবিস্টদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যারা ভিতর থেকেই চুক্তিকে দুর্বল করে তুলছে।”
তিনি বলেন, “এই আলোচনায় বাস্তব পরিবর্তন আনার জন্য প্রয়োজন জনগণের, সুশীল সমাজের ও সম্মুখ সারির সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর—যারা সত্যিকারের পরিবর্তনের পক্ষে। কিন্তু তাদেরই অংশগ্রহণ সীমিত, আর কর্পোরেট লবিস্টদের ঢল।”
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ল (CIEL)-এর বিশ্লেষণ বলছে, শুধু এবারের (বুসান-ভিত্তিক) INC-5 আলোচনাতেই ২২০ জনের বেশি পেট্রোকেমিক্যাল লবিস্ট উপস্থিত ছিলেন, যা আগের (অটোয়া) আলোচনার তুলনায় ১২% বেশি।
গ্রিনপিস জানায়, প্লাস্টিক উৎপাদন শিল্পে নেতৃত্বদানকারী ডাও, এক্সনমোবিল, শেল, শেভরন ফিলিপস, সাবিকসহ কয়েকটি বহুজাতিক কোম্পানি শুধু গত দুই বছরে তাদের উৎপাদন সক্ষমতা ১.৪ মিলিয়ন টন বাড়িয়েছে। এই সময়ে তারা প্রতি মিনিটে গড়ে ৬.৩ মিলিয়ন ট্রাক ভর্তি প্লাস্টিক উৎপাদন করেছে।
ডাও কোম্পানি একাই প্লাস্টিক থেকে ৫.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে এবং অন্তত ২১ জন লবিস্ট পাঠিয়েছে আলোচনায় অংশ নিতে।
জীবাশ্ম জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের চাপ সত্ত্বেও, পরিবেশকর্মীরা জোর দিয়ে বলছেন—এই চুক্তি যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে। গ্রাহাম ফোর্বস বলেন, “এটি শুধু প্লাস্টিকের প্রশ্ন নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। সরকারগুলিকে সাহসী হতে হবে এবং এমন একটি চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে, যা মানুষের ও পরিবেশের স্বার্থে কাজ করে—না যে কর্পোরেট মুনাফাকে প্রাধান্য দেয়।”
তথ্যসূত্র: Greenpeace International, CIEL, UNEP