
রাতভর ও সকালের বৃষ্টিপাত ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা কমিয়ে দিয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফলে আজ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাতাসের মান আগের দিনের তুলনায় অনেকটা উন্নত অবস্থানে পৌঁছেছে।
সকাল ৯টার দিকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ৫৮, যা ‘মাঝারি’ পর্যায়ে থাকলেও ‘স্বাস্থ্যকর’ অবস্থার খুব কাছাকাছি। গতকাল একই সময়ে এই স্কোর ছিল ৭৭, তখন ঢাকার অবস্থান ছিল বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ২০তম। আজ সেই অবস্থান নেমে এসেছে ৫৫তম স্থানে।
শুধু ঢাকা নয়, পাকিস্তানের লাহোর ও ভারতের দিল্লির বাতাসেও উন্নতি দেখা গেছে। গতকাল ‘মাঝারি’ পর্যায়ে থাকলেও আজ লাহোরের বাতাসের স্কোর ৩৯— যা ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত। দিল্লির স্কোর ৬০, ফলে শহরটি রয়েছে তালিকার ৪৭তম স্থানে।
এদিকে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় আজ শীর্ষে উঠে এসেছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা (একিউআই স্কোর ১৫৩)। এরপর রয়েছে কঙ্গোর কিনশাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিস, স্কোর যথাক্রমে ১৫২।
বায়ুমান সূচক অনুযায়ী:
০–৫০: ভালো
৫১–১০০: মাঝারি
১০১–১৫০: সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর
১৫১–২০০: অস্বাস্থ্যকর
২০১–৩০০: খুব অস্বাস্থ্যকর
৩০১+: বিপজ্জনক
বাংলাদেশে একিউআই সূচক নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের বায়ুদূষণের ভিত্তিতে: বস্তুকণা (PM₁₀ ও PM₂.₅), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (CO), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) এবং ওজোন (O₃)।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম জানান, ‘‘শীতকালে হিমালয় ও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে দূষিত কণা বাংলাদেশে আসে, ফলে বায়ুদূষণ বেড়ে যায়। তবে বর্ষাকালে উল্টো কিছু দূষণ বাংলাদেশের দিক থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও চলে যায়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘ফাইন পার্টিকেল বা সূক্ষ্ম বস্তুকণাগুলো বাতাসে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকে এবং অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশের মোট বায়ুদূষণের ৩০-৩৫ শতাংশ উৎস হয় দেশের বাইরের দূষণ থেকে।’’
বৃষ্টির কারণে ঢাকায় সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, টেকসই সমাধানের জন্য প্রয়োজন দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। না হলে শীতকালে ফের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।