
সারাবিশ্বে মানুষের মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ ফুসফুসের রোগ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ফুসফুস সুস্থ রাখতে ধূমপান ও জর্দা-গুলের মতো তামাকজাতীয় দ্রব্য সম্পূর্ণ পরিহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব ফুসফুস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘এ লাইফটাইম অব লাং হেলথ’ প্রতিপাদ্যে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, বিশ্বে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ বক্ষব্যাধিতে আক্রান্ত। বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর প্রধান পাঁচটি কারণের মধ্যে চারটিই শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানান তারা।
তারা বলেন, ফুসফুস ভালো রাখার প্রথম শর্ত হলো ধূমপান ও জর্দা-গুলসহ সব ধরনের তামাকজাতীয় দ্রব্য পরিহার করা। এসব রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।
যক্ষ্মা প্রসঙ্গে চিকিৎসকরা বলেন, বিজ্ঞান ইতোমধ্যে যক্ষ্মার জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবন করেছে। তবে এ রোগ নির্মূলে অবহেলা, কুসংস্কার ও সামাজিক কলঙ্ক দূর করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিলের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক এবং সংগঠনটির মহাসচিব ডা. গোলাম সারোয়ার লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া।
কর্মশালায় অকুপেশনাল লাং ডিজিজ বা পেশাগত কারণে ফুসফুসের রোগের ওপর একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এ সময় চিকিৎসকরা বক্ষব্যাধির আধুনিক চিকিৎসা এবং রোগ প্রতিরোধের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের দপ্তর সম্পাদক ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, বক্ষব্যাধি হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. জিয়াউল করিমসহ বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।