ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২১ মে ২০২৬
  1. সর্বশেষ

বিশ্বের ইতিহাসের ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলো: মানুষ এখনও অপ্রস্তুত

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২১ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

Link Copied!

ভূমিকম্প পৃথিবীর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের একটি। মানুষ যতই প্রযুক্তিতে উন্নত হোক না কেন, এখনো পর্যন্ত এই দুর্যোগকে পুরোপুরি আগাম শনাক্ত করা বা এর ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি কমানো সম্ভব হয়নি। ইতিহাস জুড়ে লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অসংখ্য স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে, এবং কোটি মানুষ গৃহহারা হয়েছেন।

১৯০০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ভূমিকম্পের তথ্য সংকলন করে আসছে। তাদের তথ্যানুযায়ী, গত শতকে রিখটার স্কেলে সর্বোচ্চ মাত্রার ১০টি ভয়াবহ ভূমিকম্পের বিবরণ নিম্নরূপ:

১. চিলি, ১৯৬০ – মাত্রা ৯.৫

চিলির বিওবিও প্রদেশে ঘটে ইতিহাসের সর্বোচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প। এতে নিহত হন ১,৬৫৫ জন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় হাজার হাজার বাড়িঘর, এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হন। ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামি প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।

২. আলাস্কা, যুক্তরাষ্ট্র, ১৯৬৪ – মাত্রা ৯.২

‘গ্রেট আলাস্কান আর্থকোয়েক’ নামে পরিচিত এই ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে প্রাণ হারান ১৩০ জন। আর্থিক ক্ষতি প্রায় ২৩০ কোটি ডলার।

৩. সুমাত্রা, ইন্দোনেশিয়া, ২০০৪ – মাত্রা ৯.১

‘ইন্ডিয়ান ওশান সুনামি’ নামে পরিচিত এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান। বাস্তুচ্যুত হন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। প্রধানত ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও থাইল্যান্ডের উপকূলীয় এলাকা ধ্বংস হয়।

৪. হোক্কাইডো, জাপান, ২০১১ – মাত্রা ৯.১

হোক্কাইডো দ্বীপে ২০১১ সালে ঘটে। প্রাণ হারান ১৫,০০০-এর বেশি মানুষ। সুনামির কারণে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনা ঘটে।

৫. কামচাটকা, রাশিয়া, ১৯৫২ – মাত্রা ৯.০

রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে উৎসস্থল। কম্পনের ঢেউ হাওয়াই পর্যন্ত পৌঁছায়। হতাহতের নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

৬. চিলি, ২০১০ – মাত্রা ৮.৮

চিলির কিউরিহিউ শহরে সংঘটিত এই ভূমিকম্পে নিহত হন ৫২৩ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৩ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি বাড়ি। সুনামি উপকূলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।

৭. ইকুয়েডর, ১৯০৬ – মাত্রা ৮.৭

এসরোলডাস অঞ্চলে ঘটে। প্রাণ হারান প্রায় ১,৫০০ জন। প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলজুড়ে সুনামিও সৃষ্টি হয়।

৮. র‌্যাট দ্বীপ, আলাস্কা, ১৯৬৫ – মাত্রা ৮.৭

জনবসতি না থাকায় হতাহত হয়নি। তবে সুনামি প্রশান্ত মহাসাগরের বিভিন্ন এলাকায় ধাক্কা দেয়।

৯. অরুণাচল–আসাম–তিব্বত, ১৯৫০ – মাত্রা ৮.৬

উৎসস্থল ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, তবে প্রভাব আসাম ও তিব্বতে পড়ে। প্রাণ হারান অন্তত ৭৮০ জন। ভূমিধস ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে ব্যাপক ক্ষতি ঘটে।

১০. সুমাত্রা, ইন্দোনেশিয়া, ২০১২ – মাত্রা ৮.৬

সুমাত্রা দ্বীপে সংঘটিত। বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি না হলেও তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। অল্পসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারান, বেশির ভাগ মৃত্যু ঘটে আতঙ্কজনিত কারণে।

বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর হাজার হাজার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। বেশির ভাগই ক্ষুদ্র মাত্রার হলেও বড় ভূমিকম্প মানব সভ্যতার জন্য এখনো ভয়ঙ্কর হুমকি। প্রযুক্তির উন্নতির পরও আগাম সতর্কতা বা ক্ষয়ক্ষতি কমানোর নিশ্চয়তা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। ফলে ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও গবেষণা আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

শাপলা ও তারা মসজিদের নকশায় এলো নতুন ৫ টাকার নোট

হাসপাতাল থেকেই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, হামে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন পাসপোর্ট নিয়ম

পিরোজপুরে শ্রমিক সংকটে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান

মেহেরপুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু, আহত ২

১৬ ডিসেম্বর চালু হবে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

সন্ধ্যার মধ্যে ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত

গাইবান্ধায় পিকআপ ও অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৬

লিবিয়ার ডিটেনশন সেন্টার থেকে দেশে ফিরছেন ১৭০ বাংলাদেশি

realme Unveils Grand Eid-ul-Adha Campaign with Cashback, Offers, and Gifts

ক্যাশব্যাক, বিশেষ অফার ও উপহার নিয়ে গ্র্যান্ড ঈদুল আজহা ক্যাম্পেইন শুরু করেছে রিয়েলমি