ঢাকামঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জরুরি প্রস্তুতি, কীসের আশঙ্কায় খাবার-পানি মজুতের পরামর্শ?

প্রতিবেদক
বিপ্লব হোসাইন
৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৯ সকাল

Link Copied!

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সাইবার হামলা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যে নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার। বাড়িতে খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো দেশ অন্তত তিন দিন, কোনো দেশ এক সপ্তাহ, আবার কোনো দেশ ১০ দিন পর্যন্ত চলার মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

এ ধরনের প্রস্তুতির উদ্দেশ্য কেবল সম্ভাব্য যুদ্ধ মোকাবিলা নয়। বরং কোনো কারণে বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, যোগাযোগ ও পণ্য সরবরাহব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ যেন তাৎক্ষণিকভাবে সংকটে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হলে নাগরিকদের নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে দেশগুলো।

২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত একটি দেশভিত্তিক পর্যালোচনায় ১৯টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি প্রস্তুতি–সংক্রান্ত উদ্যোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সব দেশের নির্দেশনা এক রকম নয়। কোথাও সরকারি নির্দেশিকা, কোথাও নাগরিকদের জন্য সুপারিশ এবং কোথাও দীর্ঘদিনের দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি রয়েছে।

যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কেন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সামরিক সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপের দেশগুলো নিজেদের সামরিক ও বেসামরিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে নাশকতা, সাইবার হামলা, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান বিশ্বে বিদ্যুৎ, পানি, ব্যাংকিং, পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব অন্য সেবাগুলোর ওপরও পড়তে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বড় ধরনের সাইবার হামলায় ব্যাংকিং ও ডিজিটাল লেনদেন ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষ অর্থ উত্তোলন বা কেনাকাটায় সমস্যায় পড়তে পারেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে পানির পাম্প, হাসপাতাল, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, যুদ্ধ বা আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট তৈরি হতে পারে। আবার বড় ধরনের বন্যা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় কিংবা দাবানলের কারণে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে জরুরি পণ্য সরবরাহও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই বিভিন্ন দেশ নাগরিকদের আগাম প্রস্তুতি নিতে বলছে।

যুক্তরাজ্যে তিন দিনের খাবার ও পানি রাখার পরামর্শ

সম্প্রতি জরুরি প্রস্তুতির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাজ্যে। দেশটির ক্যাবিনেট অফিস ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর ‘বি রেডি’ (Be Ready) নামে একটি তিন বছর মেয়াদি সচেতনতামূলক কর্মসূচির প্রথম ধাপ চালু করে। এর আওতায় পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত রাখতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকারের নির্দেশনায় অন্তত তিন দিন বা ৭২ ঘণ্টা চলার মতো প্রয়োজনীয় খাবার ও পানি বাড়িতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতি ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন প্রায় ৩ লিটার পানীয় জল রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, রেডিও, পাওয়ার ব্যাংক ও কিছু নগদ অর্থ রাখার পরামর্শ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সরকার জানিয়েছে, তীব্র আবহাওয়া, ঝড় ও দাবানলের মতো পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, পানি, ফোন ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হতে পারে। গত শীতের ঝড় এবং গ্রীষ্মের দাবানলের অভিজ্ঞতাও এ ধরনের প্রস্তুতির গুরুত্ব সামনে এনেছে। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, কর্মসূচিটির লক্ষ্য সাধারণ জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের প্রস্তুত রাখা।

জার্মানিতে ১০ দিনের প্রস্তুতির নির্দেশনা

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিতে তুলনামূলক দীর্ঘ সময়ের জন্য জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখার পরামর্শ রয়েছে। দেশটির নাগরিক সুরক্ষা ও দুর্যোগ সহায়তা দপ্তর (BBK) পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত চলার মতো খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।

এ নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন প্রায় ২ লিটার পানি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। একবারে ১০ দিনের সামগ্রী সংগ্রহ করা কঠিন হলে ধাপে ধাপে তিন, পাঁচ, সাত ও ১০ দিনের প্রয়োজনীয় মজুত গড়ে তোলার পরামর্শও রয়েছে।

জার্মানির এ প্রস্তুতির পেছনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, চরম আবহাওয়া এবং পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে। সে সময় পরিবারগুলো যেন নিজেদের প্রাথমিক প্রয়োজন মেটাতে পারে, সেটিই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

নরওয়ে ও সুইডেনে এক সপ্তাহের প্রস্তুতি

নরওয়ে ও সুইডেনেও নাগরিকদের অন্তত এক সপ্তাহ নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর মতো সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। দেশ দুটির নাগরিক প্রস্তুতির নির্দেশনায় খাবার, পানি, ওষুধ, রান্নার বিকল্প ব্যবস্থা, আলো এবং যোগাযোগের উপকরণ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নরওয়ের নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলেও কীভাবে কয়েক দিন চলতে হবে, সে বিষয়ে আগাম পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে। একইভাবে সুইডেনেও নাগরিকদের সংকট মোকাবিলায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে।

বিশেষ করে সামরিক সংঘাত, সাইবার হামলা, নাশকতা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর আঘাতের আশঙ্কা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো পরিস্থিতিও এসব নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত।

ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডেও ৭২ ঘণ্টার প্রস্তুতি

ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোতেও অন্তত ৭২ ঘণ্টা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর মতো খাবার, পানি ও জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখার পরামর্শ রয়েছে।

ফ্রান্সের সরকারের ‘তু রেসপঁসাবল’ (Tous responsables) নির্দেশিকায় জরুরি পরিস্থিতিতে তিন দিন চলার মতো পানি, খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও রেডিও রাখার কথা বলা হয়েছে। নেদারল্যান্ডসেও বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে গেলে প্রথম ৭২ ঘণ্টা কীভাবে চলতে হবে, সে বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ফিনল্যান্ডে অন্তত তিন দিনের জন্য খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব দেশের নির্দেশনায় নাগরিকদের নিজেদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী আগে থেকে গুছিয়ে রাখা এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জরুরি যোগাযোগের ব্যবস্থা ঠিক করে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাপানে ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা

এশিয়ার দেশ জাপানেও খাবার ও পানি মজুত রাখার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে দুর্যোগ প্রস্তুতির অংশ। দেশটিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প, সুনামি, ঘূর্ণিঝড় ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি রয়েছে। এসব দুর্যোগের কারণে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহব্যবস্থা দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হতে পারে।

জাপানের দুর্যোগ প্রস্তুতি নির্দেশনায় প্রতিটি পরিবারকে অন্তত তিন দিনের খাবার ও পানি প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে এক সপ্তাহের প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন প্রায় ৩ লিটার পানীয় জল রাখার পরামর্শ রয়েছে। এ ছাড়া জরুরি খাবার, নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, বহনযোগ্য টয়লেট ও পরিচ্ছন্নতাসামগ্রী প্রস্তুত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দুর্যোগের পরপরই উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম সব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব নাও হতে পারে। তাই পরিবারগুলোকে নিজেদের প্রাথমিক প্রয়োজন মেটানোর প্রস্তুতি রাখতে হবে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার নতুন কাঠামোও ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতেও জরুরি প্রস্তুতির নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রেও নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দীর্ঘদিনের। দেশটির ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (FEMA) পরিচালিত Ready.gov কর্মসূচিতে কয়েক দিনের জন্য পর্যাপ্ত খাবার, পানি, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী রাখার কথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনায় প্রতি ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন এক গ্যালন পানি রাখার পরামর্শ রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন খাবার, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, ব্যাটারি, রেডিও এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের কপি প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

কানাডাতেও জরুরি পরিস্থিতিতে অন্তত ৭২ ঘণ্টা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর মতো খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার পরামর্শ রয়েছে। দেশটির দুর্যোগ প্রস্তুতি নির্দেশনায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বন্যা, তীব্র আবহাওয়া এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমন্বিত প্রস্তুতি পরিকল্পনা

ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) সদস্য দেশগুলোর নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ ইউরোপীয় কমিশন ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি’ (Preparedness Union Strategy) প্রকাশ করে।

এ কৌশলের আওতায় যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি, তথ্যের অপব্যবহার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের পরিকল্পনায় নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর মতো খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখার নির্দেশিকা তৈরির কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ, পরিবহন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা সচল রাখার জন্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে।

কী কী সামগ্রী মজুত রাখতে বলা হচ্ছে?

বিভিন্ন দেশের জরুরি প্রস্তুতি নির্দেশনায় খাবার ও পানির পাশাপাশি বেশ কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, নিয়মিত সেবন করতে হয় এমন ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, ব্যাটারিচালিত বা হাতে ঘোরানো রেডিও এবং মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য পাওয়ার ব্যাংক।

এ ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য কিছু নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের কপি, পরিচ্ছন্নতাসামগ্রী এবং পরিবারের সদস্যদের জরুরি যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ও নিয়মিত ওষুধ সেবনকারী ব্যক্তিদের প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা প্রস্তুতি রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তাহলে কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা?

বিভিন্ন দেশের এসব প্রস্তুতির পেছনে যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও এটিই একমাত্র কারণ নয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে সাইবার হামলা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় নাশকতা এবং জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কাও রয়েছে।

তবে বিভিন্ন দেশের খাবার, পানি ও ওষুধ মজুতের পরামর্শকে আসন্ন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিশ্চিত পূর্বাভাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এসব নির্দেশনা মূলত সব ধরনের জরুরি পরিস্থিতির জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত রাখার অংশ। অর্থাৎ যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি, সাইবার হামলা কিংবা বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন-যেকোনো পরিস্থিতিতে যেন সাধারণ মানুষ অন্তত কয়েক দিন নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে, সেটিই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এই প্রস্তুতিমূলক উদ্যোগ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, সংকট কখন তৈরি হবে তা আগে থেকে জানা সম্ভব নয়। তবে আগাম প্রস্তুতি থাকলে সংকটের প্রথম ধাক্কা সামাল দেওয়া সহজ হয়। তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য কেনার পরিবর্তে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে খাবার, পানি, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দেশগুলো।

তথ্যসূত্র: যুক্তরাজ্যের ক্যাবিনেট অফিস, ইউরোপীয় কমিশন, জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা, জার্মানির BBK, যুক্তরাষ্ট্রের FEMA ও ব্রিটিশ রেড ক্রস।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সাহারা মরুভূমিতে মিলল ৪১০ কোটি বছরের পুরোনো মঙ্গল গ্রহের উল্কাপিণ্ড

৩৫ উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা

ভালো ফলন ও দামে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাটচাষিদের মুখে হাসি

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার জেজুনের

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সময়মতো ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকায় পদ্মা ব্যারাজ, বদলে যাবে ১৯ জেলার চিত্র?

বাইন্যান্সের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি, নেপথ্যে কারা?

শুঁটকিতেও মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক: শীর্ষে লইট্টা ও চিংড়ি

যুদ্ধে বিপর্যস্ত কৃষ্ণসাগর: সাড়ে ৪ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচাতে তরুণদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু