
পাকিস্তানে চলমান বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ফলে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২১ জনের মৃত্যু হওয়ায় বর্ষার শুরু থেকে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪২ জনে।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যেসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে, তার মধ্যে রয়েছে আকস্মিক বন্যা, ঘরবাড়ি ধসে পড়া, পানিতে ডুবে যাওয়া, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, বজ্রপাত এবং ভূমিধস। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৬ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ১২ জন শিশু।
আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫৯৮ জন। এর মধ্যে ২৩২ জন পুরুষ, ১৬৭ জন নারী এবং ১৯৯ জন শিশু।
বিভাগভিত্তিক প্রাণহানি:
পাঞ্জাব: ১৩৫ জন নিহত, ৪৭০ জন আহত — এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল।
খাইবার পাখতুনখোয়া: ৫৬ জন নিহত, ৭১ জন আহত।
সিন্ধু: ২৪ জন নিহত, ৪০ জন আহত।
বেলুচিস্তান: ১৬ জন নিহত, ৪ জন আহত।
গিলগিট-বালতিস্তান: ৩ জন নিহত, ৪ জন আহত।
আজাদ কাশ্মীর: ২ জন নিহত, ৮ জন আহত।
ইসলামাবাদ: ৬ জন নিহত, ১ জন আহত।
এনডিএমএ জানিয়েছে, বেশিরভাগ মৃত্যুই ঘটেছে ঘরবাড়ি ধসে পড়ার ঘটনায়। এছাড়া অনেকেই মারা গেছেন ডুবে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, বজ্রপাত কিংবা ভূমিধসে।
সরকারের পদক্ষেপ:
বিপর্যয় মোকাবিলায় রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ পৃথক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজ জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। তারা এনডিএমএ-কে প্রাদেশিক প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
পূর্ব অভিজ্ঞতা:
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে প্রায় প্রতি বছরই ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ২০২২ সালে দেশটির এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল, যেখানে প্রাণ হারিয়েছিল ১,৭৩৭ জন এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
চলমান পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে।