
প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে একটি আইনত বাধ্যতামূলক বৈশ্বিক চুক্তি এখনো নাগালের মধ্যেই রয়েছে-এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)। যদিও সাম্প্রতিক আন্তঃসরকারি আলোচনা কমিটির (আইএনসি) বৈঠকে চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব হয়নি, তবু প্রক্রিয়ায় বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইউরোপীয় কমিশন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের ডেনিশ প্রেসিডেন্সির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ইউএনইপি-এর শীর্ষ প্রতিনিধি বলেন, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ পরিবেশ পরিষদের (ইউএনইপি) পঞ্চম অধিবেশনে বিশ্ব যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল-সামুদ্রিক পরিবেশসহ প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করার-সে লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ব এখনো এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ছয়টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এই পুরো প্রক্রিয়ায় বৈশ্বিক গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে আলোচনা সম্পন্ন করে ইউএনইএ রেজোলিউশন ৫/১৪ বাস্তবায়নের জন্য আরও সংলাপ, কূটনীতি ও সময় প্রয়োজন।
সর্বশেষ আইএনসি-৫.২ অধিবেশনে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও, টানা দশ দিনের তীব্র আলোচনার পরও তা সম্ভব হয়নি। এতে উচ্চ প্রত্যাশার বিপরীতে হতাশা তৈরি হলেও, আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানানো হয়।
বক্তব্যে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। প্রথমত, এই আলোচনা হয়েছে জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও বহুপাক্ষিক চাপের মধ্যে। দ্বিতীয়ত, প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করা একটি জটিল ও সুদূরপ্রসারী কাজ, যা দেশভেদে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। তৃতীয়ত, অতীতের অনেক আন্তর্জাতিক চুক্তির তুলনায় এ প্রক্রিয়া এখনো তুলনামূলকভাবে কম সময়ের মধ্যেই এগোচ্ছে।
ইউএনইপি জানায়, আইএনসি-৫.২-এ খসড়া চুক্তির সব ক্ষেত্রেই প্রতিনিধিদল আগের তুলনায় গভীর আলোচনা করেছে। গঠনমূলক প্রস্তাব, অবস্থানের স্পষ্টতা এবং চুক্তির বেশ কয়েকটি মূল উপাদানে ক্রমবর্ধমান ঐকমত্য লক্ষ্য করা গেছে। তবে উৎপাদন, প্লাস্টিক পণ্য, অর্থায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভাজন এখনো রয়ে গেছে।
আগামী পথচলা প্রসঙ্গে জানানো হয়, ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় আইএনসি-এর একদিনের পুনঃসূচনা অধিবেশন (আইএনসি-৫.৩) অনুষ্ঠিত হবে। এটি মূলত প্রশাসনিক বৈঠক হবে, যেখানে নতুন চেয়ারসহ কর্মকর্তাদের নির্বাচন করা হবে। একই সঙ্গে আগের চেয়ার ও নেতৃত্বের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
ইউএনইপি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আন্তঃসমাবেশিক সময়কে অর্থবহভাবে কাজে লাগিয়ে অবশিষ্ট মতপার্থক্য কমানোর চেষ্টা করতে। সংস্থাটি বলেছে, ঐকমত্য গড়তে সময়, ধৈর্য এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের সঙ্গেও অব্যাহত সংলাপ জরুরি।
বক্তব্যের শেষে বলা হয়, বিজ্ঞান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে-সময় সীমাহীন নয়। তাই দ্রুত কিন্তু সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে। ইউএনইপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, দেশগুলো একত্রিত হলে এমন একটি যুগান্তকারী চুক্তি সম্ভব, যা বিশ্বকে প্লাস্টিক দূষণ অবসানের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।