পাবনায় চলতি শৈত্যপ্রবাহে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সকাল থেকে সূর্যের দেখা না মেলায় কনকনে ঠান্ডা ও হিমেল বাতাসে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। তীব্র শীতের প্রভাবে হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, আজকের তাপমাত্রা দেশের সর্বনিম্ন এবং চলতি মৌসুমে পাবনার সর্বনিম্ন। সকাল ৯টায় বাতাসে জলীয় বাষ্পের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। দুপুর ১২টায় তা কমে ৭৯ শতাংশে দাঁড়ায় এবং ওই সময় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।
গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহে গ্রাম ও শহরের জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকে। সকাল ও বিকেলের দিকে খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। ফলে সড়কে যানবাহন চলাচল কমে গেছে এবং অটোরিকশা ও রিকশাচালকদের আয় মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
শহরের আব্দুল হামিদ সড়কে অটোরিকশাচালক নাসির বলেন, “এই শীতে মানুষের বাঁচার চিন্তা। এজন্য রাস্তায় মানুষ নাই। যাত্রী না থাকায় সারাদিন ঘুরেও ৩০০ টাকা কামাই করা কঠিন হয়ে গেছে। সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
আরেক অটোরিকশাচালক হাসু হোসেন জানান, পাবনা শহরে শুধু স্থানীয় চালকরাই নন, সাঁথিয়া, বেড়া ও সুজানগর উপজেলার অনেক চালক প্রতিদিন ভোরে এসে রিকশা চালান। তবে কয়েকদিন ধরে আয় কম থাকায় তাদের অনেকেই এখন শহরে আসছেন না।
এদিকে তীব্র শীতে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ৭০ জন, নিউমোনিয়ায় ৪০ জন এবং ডায়রিয়ায় ৩৬ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবছর শীত বাড়লে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এবারও বাড়ছে, তবে এখনো অন্যান্য বছরের তুলনায় খুব বেশি নয়। আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”


