ঢাকাবুধবার , ২৫ জুন ২০২৫
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

পরিবেশ ও বৃক্ষরোপণ মেলার উদ্বোধন আজ, থাকছে পুরস্কার ও চারা বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ২৫, ২০২৫ ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ । ৪০৩ জন

আজ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৫’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৫’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সকাল ১১টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মেলার উদ্বোধন করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পরিবেশ পদক, বৃক্ষরোপণ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার প্রদান করবেন। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মাঝে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করবেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, পরিবেশ মেলা চলবে ২৫ থেকে ২৭ জুন এবং বৃক্ষমেলা চলবে ২৫ জুন থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এবারের পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “প্লাস্টিক দূষণ আর নয়, বন্ধ করার এখনই সময়”, এবং বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রতিপাদ্য— “পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি”। এই প্রতিপাদ্য ধারণ করে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে এ উপলক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচিগুলো।

উপদেষ্টা আরও জানান, পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ঢাকার ১০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চিত্রাঙ্কন, বিতর্ক, স্লোগান প্রতিযোগিতা, সেমিনার ও শিল্প প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নানা সচেতনতামূলক আয়োজন চলবে। পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে চারা বিতরণ করা হবে।

দেশজুড়ে মোবাইলে এসএমএস প্রচারণা, ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপনসহ জনসম্পৃক্ত নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের আওতায় ১৯৯৫-৯৬ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৮৪২ হেক্টর ব্লক বাগান, ৭২ হাজার ৫৮১ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগান এবং ২০ কোটি ৬২ লাখ চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২ লাখ ৫০ হাজার উপকারভোগীর মধ্যে ৫০৫ কোটি টাকা লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়েছে।

সরকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের অংশ হিসেবে হাতি, শকুন, শাপলাপাতা মাছ, পরিযায়ী পাখি, হাঙর, ডলফিন ও ঘড়িয়াল সংরক্ষণের কার্যক্রম চালু রেখেছে। হালনাগাদ করা হয়েছে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন। একইসঙ্গে বাতিল করা হয়েছে মৌলভীবাজারের লাঠিটিলায় সাফারি পার্ক প্রকল্প এবং পূর্বাচল এলাকাকে জীববৈচিত্র্য অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

পরিবেশ মেলা ও বৃক্ষমেলার এই আয়োজনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রত্যাশা রাখছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।