
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে পটুয়াখালীসহ উপকূলজুড়ে বিরাজ করছে বৈরী আবহাওয়া ও দমকা হাওয়ার সঙ্গে টানা মুষলধারে বৃষ্টি।
পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টির মাত্রা আরও বেড়ে গেছে, যা বৃহস্পতিবারও অব্যাহত রয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ, যাদের অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।
কুয়াকাটা উপকূলে বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে সমুদ্র ক্রমেই উত্তাল হয়ে উঠছে। নদীপাড়ে ভাঙন ও প্লাবনের আশঙ্কা বাড়ছে। উপকূলীয় নদনদীর পানির উচ্চতাও ক্রমশ বাড়ছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাসহ দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। পাশাপাশি, সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলার ও নৌযানগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্টগার্ড থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ অবস্থায় উপকূলীয় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে অনেকেই শুকনো খাবার, নিরাপদ পানি, টর্চলাইটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করছেন।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এতে করে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ার তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।