ঢাকাশুক্রবার , ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা নেমে ৯ ডিগ্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডিসেম্বর ১২, ২০২৫ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ । ১৫১ জন

পঞ্চগড়ে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। কয়েক দিন ধরে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৯–১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করছে। উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় বেড়েছে শীতের প্রকোপ। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা, বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ তীব্র আকার ধারণ করেছে।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসে সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৮ শতাংশ। তেঁতুলিয়া প্রায়ই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার স্থান হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, শীতের তীব্রতা এখানে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় কনকনে ঠান্ডা, হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকেই বাড়ছে কুয়াশার ঘনত্ব, যা সারারাত স্থায়ী হচ্ছে। হিমেল বাতাসের কারণে কাজ করতে পারছেন না অনেক শ্রমিক, ফলে আয়-রোজগার কমে গেছে।

বিশেষ করে পাথর শ্রমিক, চা–শ্রমিক, রিকশা ও ভ্যানচালক এবং কৃষি শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। শীতের কারণে যাত্রীরা রিকশা–ভ্যানে উঠছেন কম, ফলে উপার্জন কমে গেছে এসব মানুষের। সকালবেলা ঠান্ডা বাতাসে কাবু হয়ে পড়া মানুষ গরম কাপড় পরে বের হলেও অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

জেলায় শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে দ্রুত। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক রোগী সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালের শয্যা সংকট দেখা দেওয়ায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের বারান্দা বা মেঝেতে জায়গা করে নিতে হচ্ছে। শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পঞ্চগড়ে অন্যান্য জেলার তুলনায় আগেই শীত শুরু হয়, তাই শুরুতেই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সরকারিভাবে পাওয়া ৩০ লাখ টাকা দিয়ে ৮ হাজার ৬৪০টি কম্বল কেনা ও বিতরণ করা হয়েছে। আরও শীতবস্ত্র চেয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, চলতি মাসের মাঝামাঝি এক থেকে দুইটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।