
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শ্রমিকের মর্যাদা নিশ্চিতকরণ ও শ্রমিক-কেন্দ্রিক নীতি প্রণয়ন ছাড়া ন্যায্য রূপান্তর সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পরিবেশ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক মডেলগুলো শ্রমিকদের মর্যাদা অর্জনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এখনই শ্রমিক-কেন্দ্রিক নীতি বাস্তবায়ন এবং কার্যকর রক্ষাকবচ প্রণয়ন অপরিহার্য। এজন্য শ্রমিকদের সময়মতো মজুরি প্রদান, ন্যায্য ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আয়োজিত “Just Transition Convention Bangladesh 2025”–এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রিজওয়ানা হাসান শিপব্রেকিং শিল্প, পাথরভাঙা ও আউটসোর্সিং শ্রমিকদের ঝুঁকি, কৃষকদের ঋণজনিত সংকট ও আত্মহত্যার প্রবণতা, মৎস্যজীবী ও কৃষক সম্প্রদায়ের সুরক্ষা ইত্যাদি বিষয়কে চিহ্নিত করে কার্যকর রাষ্ট্রীয় সমাধান এবং ত্রিপাক্ষিক সংলাপ জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে ন্যায্য, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন সাবেক সচিব এএইচএম শফিকুজ্জামান, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ ও উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক একেএম আশরাফ উদ্দিন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা, মনডিয়াল ফিনভ-এর পলিসি অ্যাডভাইজার রুবেন কোরেভার এবং শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল কাদের হাওলাদার।
বক্তারা ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সরকারের মধ্যে সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ট্রেড ইউনিয়নগুলো নন-পার্টিজান অবস্থানে থেকেও শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা ন্যায্য রূপান্তরের জন্য একটি রোডম্যাপ ও জাতীয় মঞ্চ গঠনে একমত হন। এতে নীতিগত সুপারিশ, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা এবং বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।