
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত স্বচ্ছতা, ডিজিটাল সেবা ও দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালুর তাগিদ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। সংস্থাটি বলছে, বিদ্যমান জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।
সোমবার (৩০ জুন) রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে চীনের বিদেশি বিনিয়োগের সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ: অগ্রগতির পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে সিপিডি এবং বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য শক্তি ফোরাম।
মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষক আবরার আহমেদ। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করতে গিয়ে উদ্যোক্তাদের একাধিক দপ্তরে যেতে হয়, সশরীরে আবেদন করতে হয় এবং কাগজনির্ভর দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর ফলে সময় ও অর্থ ব্যয় বাড়ে, যা অনেক বিনিয়োগকারীকে নিরুৎসাহিত করে।
তিনি জানান, প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের পর একটি প্রস্তাবকে পিডিবি, মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ কমিটির মাধ্যমে অতিক্রম করতে হয়, যা ভারতে মাত্র ৩-৪ মাসে সম্পন্ন হলেও বাংলাদেশে এক বছরের বেশি সময় লাগে। এছাড়া তথ্যপ্রাপ্তিতে সীমাবদ্ধতা, একাধিক লাইসেন্স ও সার্টিফিকেটের জটিলতা বিনিয়োগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদেশি বিনিয়োগের অর্ধেকই চীনের। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৩১টি নবায়নযোগ্য প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি কোম্পানি ইতোমধ্যে জমি কিনে ফেলেছিল এবং সরকারকে করও দিয়েছিল। সিপিডি এই বাতিল প্রকল্পগুলোর ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ পর্যালোচনার দাবি জানায়।
গবেষণায় বিনিয়োগ আকর্ষণে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন, আইনি কাঠামোর স্বচ্ছতা, বিনিয়োগ নির্দেশিকা চালু এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “ডিজিটালাইজেশনের কথা বলা হলেও এখনো অর্ধেকই ডিজিটাল। বিডা (বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) চাইলে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের সহায়তায় ওয়ান-স্টপ সার্ভিস কার্যকর করতে পারে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সভাপতি হান কুন, ও নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকার কার্যকর ও বাস্তবসম্মত নীতি গ্রহণ করলে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদেশি বিনিয়োগ বহুগুণে বাড়বে, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতে পরিবেশবান্ধব পরিবর্তন নিয়ে আসবে।