ঢাকামঙ্গলবার , ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

ধূমপান রোধে কার্যকর বাস্তবায়নের বিকল্প নেই: স্বাস্থ্য সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানুয়ারি ২৭, ২০২৬ ৩:৫২ অপরাহ্ণ । ১০৮ জন

ধূমপানের স্বাস্থ্যজনিত ও জনস্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরে স্বাস্থ্য সচিব ডা মো সায়েদুর রহমান বলেছেন, ধূমপানজনিত মৃত্যু ও রোগ প্রতিরোধে কার্যকর বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ ধূমপানজনিত কারণে মারা যায়। বাংলাদেশে এ সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার। এই বাস্তব চিত্র আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়-ধূমপান রোধ এখন সময়ের দাবি।”

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৫ এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের (এনটিসি) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী ধূমপানজনিত মৃত্যুর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ পরোক্ষ ধূমপায়ী। বাংলাদেশে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মৃত্যুর হার ২.৫১ শতাংশ। ধূমপায়ীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। ধূমপানের কারণে একজন মানুষের গড় আয়ু কমে যায় প্রায় ১০ বছর এবং কর্মদক্ষতা হ্রাস পায় প্রায় ২৫ শতাংশ।

অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, “দেশে প্রায় ৪ কোটি মানুষ ধূমপায়ী এবং প্রায় ২ কোটি মানুষ ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন করে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো-পরোক্ষ ধূমপায়ীর সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি।” তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণকারী রোগীদের মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশ ধূমপায়ী, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে রোগজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে ধূমপান অন্যতম প্রধান প্রতিরোধযোগ্য কারণ। “এই পরিসংখ্যানগুলো যদি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি, তাহলে সাম্প্রতিক তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ এবং এর বাস্তবায়ন নিয়ে আজকের আলোচনা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ,”—বলেন তিনি। এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ধূমপান বিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, ডা. অরূপ রতন চৌধুরীসহ বহু গুণীজন দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো-সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আইনটির বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, “প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষকে সম্পৃক্ত করতে না পারলে এই উদ্যোগ সফল হবে না।” স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৭ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব একা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব।”

অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান আরও বলেন, ধূমপানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব শুধু ফুসফুসে সীমাবদ্ধ নয়; মাথা থেকে পা পর্যন্ত অন্তত ৩৫টি রোগের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি এর ক্ষতিকর প্রভাব মাইক্রো-মলিকুলার স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ২০২০ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট মৃত্যুর ৪৩ শতাংশই প্রতিরোধযোগ্য। এ ক্ষেত্রে ধূমপান একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। পরিবেশ দূষণ, বায়ুদূষণ ও ক্যান্সারের সঙ্গেও তামাকের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দেশে ফুসফুস ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সবশেষে অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, “২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে সরকার, বেসরকারি খাত, এনজিও এবং কমিউনিটি-সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সামাজিক পরিবর্তন আনতে কমপক্ষে ১০ বছর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”