ঢাকাবুধবার , ২৬ নভেম্বর ২০২৫
  • অন্যান্য

দুর্বিসহ রাত কড়াইলবাসীর: আগুনে পুড়ে ছাই হাজারো ঘর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ২৬, ২০২৫ ১১:১১ পূর্বাহ্ণ । ১৪৮ জন

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে দেড় হাজারেরও বেশি ঘর। ফলে দেড় হাজার পরিবার হারিয়েছে একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট টানা পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও তার আগেই হাজারো মানুষের স্বপ্ন-জমানো ঘর ভস্মীভূত হয়ে যায়।

ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। শিশুসহ অসহায় মানুষেরা কোথায় ঘুমাবে-এ প্রশ্নের উত্তর কারো কাছেই নেই। খাবার ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে; স্থানীয় মানুষ, রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকরা কিছু সহায়তা করলেও তা খুবই অপ্রতুল।

সাত বছর ধরে বস্তিতে থাকা লাভলী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সব পুড়ে গেছে-কিস্তির জিনিস, সঞ্চয়ের টাকা, কাপড়, কিছুই রইল না। বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় ঘুমাব জানি না।”
লাইলীর স্বামী ভ্যানচালক মোহসিন আলী বলেন, “খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি সব শেষ। এখন শীতের মধ্যে বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় থাকব?”

মাস দুই আগে বস্তিতে ওঠা দিনমজুর শামসুল ইসলাম বলেন, “নতুন সব জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়েছে। আগুন এত তীব্র ছিল যে কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।” তিনি জানান, শিশুরা খামারবাড়ি মাঠের পাশে অস্থায়ীভাবে বিছানা করে রাত কাটিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাবার ও পানির তীব্র সংকট। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন, জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা সাহায্য করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা কম। স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, “দুই হাজারের বেশি মানুষ খোলা আকাশের নিচে। যতটুকু পারছি করছি, কিন্তু প্রয়োজন অনেক।”

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “গৃহহীন পরিবারগুলোর দুঃখ আমাদের সবার বেদনা। সরকার পুনর্বাসনে সব ধরনের সহায়তা দেবে।”
তিনি অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং কঠিন সময়ে ধৈর্য ধরে থাকার আহ্বান জানান।

প্রতি বছরই কড়াইল বস্তিতে এমন বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এগুলো নিছক দুর্ঘটনা-নাকি উদ্দেশ্যমূলক? এমন প্রশ্ন জনমনে ঘুরপাক খায়। বস্তিবাসীদের উচ্ছেদে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানো হয় কি না-তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কিন্তু আগের সব ঘটনার মতো এবারও সত্য কি সামনে আসবে, নাকি অন্য প্রশ্নের মতোই উত্তরহীন রয়ে যাবে-তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।