ঢাকামঙ্গলবার , ৬ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

তিস্তার ভাঙনে বিলীন স্কুল, পরে ফেলা হচ্ছে জিওব্যাগ

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০০ সকাল

Link Copied!

‘এখন হামার স্কুলেই নাই, আর ওমরা আইসছে ব্যাগ নিয়া। এ্যালানিয়া কি করি হামরা ওমার জিও ব্যাগ। ওমাক কন ওমরা ওমার ব্যাগ নিয়া যাউক।’-তিস্তার ভাঙনে বিদ্যালয় বিলীন হওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে এ কথা বলেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরবাসীর অভিভাবক মোজাম্মেল হক।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়টি রক্ষায় আগে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। বিদ্যালয়ের একটি অংশ নদীতে বিলীন হওয়ার পর বুধবার সকাল থেকে সেখানে জিওব্যাগ ফেলা শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার ভোর থেকে তিস্তার তীব্র ভাঙনে বিদ্যালয়টির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে চলে যায়। পরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় বিদ্যালয়ের অবশিষ্ট অংশের বিভিন্ন সরঞ্জাম।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টি তিস্তার ভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানোসহ বিদ্যালয় রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান, স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শনও করেন।

সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এরপর বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানেই বিদ্যালয়ের একটি বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুর রহমান মণ্ডল বলেন, ‘আজকে ট্রলারে ট্রলারে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এই কাজটা যদি ওনারা আর দুই দিন আগে করত, তাহলে এত বড় বিপদ দেখতে হতো না আমাদের। অথচ বহুদিন বহু জায়গায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। কেউ গুরুত্ব দেননি এতদিন। সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পর এসেছেন।’

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের অবশিষ্ট অংশ রক্ষার পাশাপাশি দ্রুত নিরাপদ স্থানে এটি পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে তিস্তার ভাঙনপ্রবণ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতি রক্ষায় আগাম ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পর বিদ্যালয়ের সবকিছু খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছিল। পরে তারা সেগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই জিওব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

উপকূলের ১৪ জেলায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬: কতটা নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা?

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস যৌথভাবে কাজ করবে

কোম্পানির হস্তক্ষেপ তামাক নিয়ন্ত্রণের বড় বাঁধা

realme C100 Set to Bring All-round Durable Champion 8000mAh Titan Battery

অলরাউন্ড ডিউরেবল চ্যাম্পিয়ন ৮,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারি নিয়ে আসছে রিয়েলমি সি১০০

মানিকগঞ্জে বাসচাপায় তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি নিহত

আজ বিশ্ব বসতি দিবস

বৃষ্টির পর তেঁতুলিয়ায় শীতের আমেজ, তাপমাত্রা নামল ২০ ডিগ্রিতে

হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৩ মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ২ হাজার ৮৯

সরকারি হাসপাতাল তদারকিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৫৪ কর্মকর্তা