
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী দাওধারা কাটাবাড়ি এলাকায় বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে পড়ে আরও এক বন্যহাতির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ জুলাই) ভোররাতে ১৫–১৬ বছর বয়সী একটি পুরুষ হাতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় বলে নিশ্চিত করেছে বন বিভাগ।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এলাকাটিতে আগে থেকেই পাতা বৈদ্যুতিক সংযোগ দেওয়া জিআই তারের ফাঁদে পা পড়লে হাতিটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। মৃত্যুর পর সারারাত হাতিটির দলের অন্যান্য হাতিগুলো আশপাশে অবস্থান করে চিৎকার করতে থাকে। সকালে হাতির দলটি বনের ভেতরে চলে গেলে বনবিভাগের কর্মকর্তারা মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে আলামত সংগ্রহ শেষে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
বন্যহাতি হত্যার ধারাবাহিকতা উদ্বেগজনক
‘রিসার্চ অ্যান্ড কনজারভেশন অব এলিফ্যান্ট বাংলাদেশ’-এর সভাপতি আসিফুজ্জামান পৃত্থীল বলেন, “প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে, হাতিটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এমন ঘটনা এ অঞ্চলে নতুন নয়। ভূমিখেকোদের দ্বারা বারবার বন্যহাতি হত্যা করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “পাহাড়ি এলাকার ভূমি দখল করে বসতি গড়তে আগ্রহীরা পরিকল্পিতভাবে হাতিগুলোর চলাচলের পথ রুদ্ধ করছে এবং বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে হত্যা করছে। বনবিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো এসব বিষয়ে অবগত হলেও অনেক সময় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব করে। অবিলম্বে এই চক্রকে আইনের আওতায় এনে বন্যহাতিদের রক্ষা করতে হবে।”
প্রশাসনের অবস্থান ও তদন্ত
বন বিভাগের নালিতাবাড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী বলেন, “হাতিটির বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ বছর। বিদ্যুতায়িত তারে জড়িয়ে মারা গেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি। ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান, নালিতাবাড়ী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা। তবে জেলা প্রশাসকের সরকারি মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করেননি।
পেছনে মৃত্যুর ইতিহাস
এই বছরের ৯ জুন একই এলাকায় একটি হাতি শাবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তারও আগে, ৩১ মার্চ পার্শ্ববর্তী সমশ্চুড়া এলাকায় আরও একটি হাতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বন্যহাতি হত্যা ফৌজদারি অপরাধ হলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় পরিবেশবাদীরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতির চলাচলের করিডোর ও আবাসস্থল ধ্বংস হলে এবং হত্যার এ ধারা চলতে থাকলে শিগগিরই এই অঞ্চলে বন্যহাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে।