পরিবেশ দূষণ রোধে বাংলাদেশে পলিথিনের ব্যবহার বহু আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গতবারের মতো এবারও ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় (ডিএসইম) সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে বাস্তব চিত্র দেখাচ্ছে, ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না।
মেলার প্রাঙ্গণে ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা দেদারসে পলিথিন ব্যাগে পণ্য বহন করছেন। বিদেশি স্টলগুলোও পলিথিন ব্যাগ বিতরণ করছে। ক্রেতারা জানান, ভারী পণ্য বহনের জন্য বিকল্প ব্যাগ না থাকায় বাধ্য হয়ে পলিথিন ব্যবহার করতে হচ্ছে। তারা বলছেন, যদি পাট বা বড় কাপড়ের পরিবেশবান্ধব ব্যাগ পাওয়া যেত, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো।
অন্যদিকে, বিক্রেতারা নির্দ্বিধায় পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করছেন। তারা দায় চাপাচ্ছেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ওপর। তাদের দাবি, সরকার বা আয়োজক পক্ষ থেকে বড় ও টেকসই পরিবেশবান্ধব ব্যাগের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি। মেলা কর্তৃপক্ষ যে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ দিয়েছে, তা ছোট হওয়ায় ভারী পণ্যের জন্য ব্যবহারযোগ্য নয়। ফলে বিকল্প হিসেবে পলিথিন ব্যবহার করা হচ্ছে।
এছাড়া, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কী ধরনের শাস্তি বা সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও কোনো কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কেউ ক্যামেরার সামনে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সবমিলিয়ে, কাগজে-কলমে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবতায় সঠিক তদারকির অভাবে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় পলিথিন ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হচ্ছে না। পরিবেশ সুরক্ষার ঘোষণাই বাস্তবতার বাইরে থেকে যাচ্ছে।


