
বৃষ্টিপাতের কারণে কিছুদিন ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা কমলেও আবার বেড়েছে দূষণ। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর বায়ুমান সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সুইস প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের বায়ুমান পর্যবেক্ষণ তালিকা অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টায় ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ১৬৭, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত। বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় এ সময়ে ঢাকার অবস্থান ছিল তৃতীয়।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে কুয়েত সিটি, যেখানে বায়ুমান ২৪২ (খুব অস্বাস্থ্যকর)। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইরাকের রাজধানী বাগদাদের বায়ুমান ২০৫। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভারতের কলকাতা (১৬৬) ও কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা (১৬৩)।
আইকিউএয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণাই (ফাইন পার্টিকুলেট ম্যাটার) দূষণের প্রধান উৎস। এ ধরনের দূষণ শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদ্রোগ এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১-১০০ সহনীয়, ১০১-১৫০ সংবেদনশীলদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, ১৫১-২০০ সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১-৩০০ খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। সূচক ৩০০ ছাড়ালে বাতাসকে দুর্যোগপূর্ণ বলা হয়।
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বায়ুদূষণ প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ। অপরদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, গৃহস্থালি ও পরিবেশগত বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে প্রতি বছর ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়।
এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ইটভাটা ও শিল্পকারখানার মালিকদের কঠিন বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখতে, নির্মাণস্থলে ছাউনি ও বেষ্টনী ব্যবহার করতে এবং নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সময় ঢেকে রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া নির্মাণস্থলের আশপাশে দিনে অন্তত দুবার পানি ছিটানো ও পুরোনো ধোঁয়াযুক্ত যানবাহন সড়কে না নামানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঢাকার দীর্ঘদিনের অতিমাত্রার দূষণের কারণে বাইরে বের হলে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।