
দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র বায়ুদূষণের কবলে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। ক্রমাগত বাড়তে থাকা দূষণে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবন ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। শীতের মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যার প্রভাব পড়ছে বায়ুর মানে। এমন প্রেক্ষাপটে আবারও বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানের কাছাকাছি উঠে এসেছে ঢাকা, যা নগরবাসীর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। এদিন ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) স্কোর ছিল ২৫৪, যা দূষণের মাত্রা অনুযায়ী ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (আইকিউএয়ার)-এর প্রকাশিত তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে মিসরের রাজধানী কায়রো। সেখানে বায়ুদূষণের স্কোর ছিল ৩০৬, যা ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে পড়েছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের রাজধানী দিল্লির দূষণ স্কোর ছিল ২৩৭, যা ঢাকার মতোই খুব অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ের মধ্যে রয়েছে।
একিউআই মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়। আর ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর হলে সেটিকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার নিয়মিতভাবে একিউআই সূচকের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে থাকে। তাদের তথ্যমতে, ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম২.৫ দূষণের প্রধান কারণ। এই ধরনের দূষণ দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, হৃদ্রোগসহ নানা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়।
এ বিষয়ে ২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদফতর ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান তিনটি উৎস হলো-ইটভাটার ধোঁয়া, যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া এবং বিভিন্ন নির্মাণকাজ থেকে উড়তে থাকা ধুলোবালি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে রাজধানীর জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।