
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আবারও একটি মৌসুমি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আজ সোমবার (১৪ জুলাই) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে এ লঘুচাপের কেন্দ্র অবস্থান করছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা রাজ্য এবং বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের ওপর। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই মৌসুমি লঘুচাপের কারণে আজ থেকেই বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় জেলাগুলোতে একটানা বৃষ্টি হতে পারে, যা আগামী অন্তত ৩ দিন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে বর্তমানে প্রচণ্ড উত্তাল অবস্থা বিরাজ করছে। সাগরে নিয়মিতভাবে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে, যেগুলো থেকে জলীয়বাষ্পবাহী ঘন মেঘ বিরতিহীনভাবে বাংলাদেশের ভুখণ্ডে প্রবেশ করছে।
এই ঘন মেঘের প্রবাহ বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় অঞ্চল অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে এবং তা বিস্তৃত হচ্ছে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী আরাকান পাহাড় ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি এলাকাতেও।
এই ঘন মেঘ পাহাড়ি ঢাল বেয়ে উঠতে গিয়ে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং ত্রিপুরার বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটাচ্ছে। এতে পাহাড়ি ঢলে ভূমিধসের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই মৌসুমি লঘুচাপটি অন্তত আগামী ৭২ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আগামী বুধবার (১৭ জুলাই) পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড রাজ্য এবং বাংলাদেশের খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের ওপর এর প্রভাব বজায় থাকতে পারে।
এর ফলে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলজুড়ে আবারও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নিচু এলাকা ও শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে এবং নদনদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সাগরে অবস্থানরত মাছধরার নৌযান ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।