
ফিলিপাইনে ভয়াবহ টাইফুন ‘কালমায়েগি’ আঘাত হানার পর মধ্যাঞ্চলের একাধিক এলাকায় মারাত্মক বন্যা দেখা দিয়েছে। প্রবল ঝড় ও বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে, ভেসে গেছে যানবাহন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং লাখো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতের ঠিক আগে টাইফুনটি প্রথম স্থলে আঘাত হানে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে এটি সেবু ও নেগরোস দ্বীপ অতিক্রম করে। তখন ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যায়, দমকা হাওয়া পৌঁছায় ১৮৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।
সেবুর তথ্য কর্মকর্তা রন রামোস জানান, অনেক মানুষ ছাদে আটকা পড়ে উদ্ধারের অপেক্ষায় আছেন। “এমনকি কিছু আশ্রয়কেন্দ্রেও পানি ঢুকে গেছে,” তিনি বলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ডন ডেল রোসারিও (২৮) জানান, “রাত ৩টার দিকে হঠাৎ বন্যা শুরু হয়, আর এক ঘণ্টার মধ্যে পানি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আমি ২৮ বছর ধরে এখানে আছি, কিন্তু এমন ভয়াবহ কিছু কখনো দেখিনি।”
দেশটির সিভিল ডিফেন্স অফিসের ডেপুটি প্রশাসক রাফায়েলিতো আলেহান্দ্রো জানিয়েছেন, ঝড়ের গতিপথ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বোহল প্রদেশে গাছচাপায় একজন পুরুষ এবং দক্ষিণ লেইতে প্রদেশে পানিতে ডুবে আরেকজন বয়স্ক ব্যক্তি মারা গেছেন।
লেইতে দ্বীপের দুর্যোগ কর্মকর্তা রোয়েল মনতেসা বলেন, সোমবার পালো ও তানাউয়ান শহরে জরুরি সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছিল—এই দুই শহরেই ২০১৩ সালে সুপার টাইফুন হাইয়ান আঘাত হেনে ৬ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।
ফিলিপাইন প্রতি বছর গড়ে ২০টি টাইফুন বা ঝড়ের মুখোমুখি হয়। চলতি বছর সেপ্টেম্বরে দেশটিতে আরও দুটি শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানে, যার একটি ছিল সুপার টাইফুন ‘রাগাসা’।
ফিলিপাইনের আবহাওয়া দপ্তরের বিশেষজ্ঞ চারম্যাগনে ভারিলা জানিয়েছেন, “টাইফুন কালমায়েগির মধ্য দিয়েই ফিলিপাইন তার বার্ষিক গড় ২০টি ঝড়ের সীমায় পৌঁছে গেছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “ডিসেম্বরের মধ্যে আরও তিন থেকে পাঁচটি টাইফুন দেখা যেতে পারে।”
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও লা নিনা প্রভাবের কারণে ফিলিপাইনে ঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা উভয়ই বেড়ে যাচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলেই লা নিনা পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা টাইফুন সৃষ্টিকে ত্বরান্বিত করে।
সূত্র: এএফপি