ঢাকাসোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতে ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪২ সকাল

Link Copied!

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সংকট মোকাবিলায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল, বিরোধী দল, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঢাকার ঢাকা ক্লাবে ‘জ্বালানি খাতের সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যা সমাধানে সরকার আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করছে। জাতীয় সংসদকে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনা ও মতবিনিময়ের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এলপিজি খাতেও সরকারের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানি করলেও বাজারে সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকারের ভূমিকা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল কাজে লাগিয়ে সরকার নিজস্বভাবে এলপিজি আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করছে।

মাতারবাড়িতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করা হবে। তবে এলএনজি সরবরাহ বাড়াতে শুধু অর্থ থাকলেই তাৎক্ষণিকভাবে আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বিশেষ করে এলএনজি টার্মিনাল ও অবতরণ সুবিধা থাকা জরুরি।

বিদ্যুৎ ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারার কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়েও এ চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনও কমছে। তাই জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সংকট পুরোপুরি সমাধান করতে না পারলেও জনগণের দুর্ভোগ কমাতে কাজ করেছে বলে জানান তিনি। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থানকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ দিয়ে সরকারকেও বিভিন্ন খাতে সমন্বয় করে চলতে হচ্ছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী সাড়ে চার বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এ সময় বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে আগ্রহের কথাও জানানো হয়। একটি বিদেশি উদ্যোক্তা গোষ্ঠী বৃহৎ পরিসরে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এলএনজি ও এলপিজির পাশাপাশি দেশের নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে বিডিং রাউন্ড চালু করা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ করার আশা করা হচ্ছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে এসব কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কেন্দ্রগুলো প্রায় ৮৫ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালনা করা গেলে তা একটি আদর্শ পরিস্থিতি হবে। তবে আমদানিকৃত কয়লার ওপর নির্ভরতার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।

দেশের ভূগর্ভে উল্লেখযোগ্য কয়লার মজুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। জনগণের স্বার্থ, পরিবেশ এবং দেশের সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।

দক্ষ জনবল তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে কর্মকর্তাদের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠানো হলেও এখন ছয় মাস থেকে দুই বছর মেয়াদি বিভিন্ন সার্টিফিকেট কোর্সে পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করে তাদের দেশের সম্পদে পরিণত করা হবে।

তিনি বলেন, বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোতেও বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। দেশের জনবলকে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা দেওয়া গেলে তারাই ভবিষ্যতে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বড় সম্পদে পরিণত হতে পারেন।

সরকারের ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সরকারি ক্রয়নীতি অনুসরণ করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নেওয়া সব উদ্যোগে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগ, দেশীয় সম্পদের অনুসন্ধান, আমদানি অবকাঠামো সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে আগামী দিনে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

দেশব্যাপী হাতি জরিপ পরিচালনা করবে অরণ্যক ফাউন্ডেশন

বিশ্বের সেরা নতুন ভবনের স্বীকৃতি পেল রংপুরের ‘গ্রিন ফিল্ড ফ্যাক্টরি’

আম-লিচু বাগানে প্রথমবারের মতো মিলল নতুন প্রজাতির ঝিঁঝিঁ পোকা

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে দেশের রোল মডেল হতে পারে বরিশাল

পাট খাতে চীনের প্রযুক্তি ও গবেষণা সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

Xiaomi Launches Xiaomi TV S Pro Mini LED and Xiaomi TV X Mini LED Series in Bangladesh

বাংলাদেশে শাওমি টিভি এস প্রো মিনি এলইডি ও শাওমি টিভি এক্স মিনি এলইডি নিয়ে এলো শাওমি

স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যানসার শনাক্তে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করছে সরকার

তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্তে স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ সরকারের

হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১,২৫৪

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট ১৯৫

সোনাইমুড়ীতে ট্রলির চাপায় মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু