
জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও দূষণ-এই ত্রি-মাত্রিক বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট, পূর্বানুমানযোগ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থায়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল কেনিয়ার নাইরোবিতে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সপ্তম অধিবেশন (UNEA-7)-এ ন্যাশনাল স্টেটমেন্ট উপস্থাপন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত থেকে অর্থ সরিয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যয় করতে হয়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সমন্বিত, ন্যায্য ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হকসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল প্লেনারিতে উপস্থিত ছিলেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তুলে ধরে সচিব বলেন, “বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিদিনের বাস্তবতা।” চরম তাপদাহ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। এর মধ্যেও বৈশ্বিক নিঃসরণের ০.৫ শতাংশেরও কম অবদান রেখে বাংলাদেশ জলবায়ু নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ তার উন্নত NDC 3.0–এ ২০৩৫ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে-যা বর্তমান সক্ষমতার পাঁচ গুণ।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল (২০২৬–৩০), জাতীয় সংরক্ষণ কৌশল, রামসার কৌশল, LDN 2030 ও অন্যান্য নীতি বাস্তবায়নের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। ১৮ কোটি মানুষের চাপের কারণে ভূমি ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে-তাও তিনি উল্লেখ করেন।
দূষণ নিয়ন্ত্রণে পাতলা পলিথিন নিষিদ্ধকারী বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরে সচিব জানান, কঠিন বর্জ্য, ই-বর্জ্য, চিকিৎসা ও ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য এবং জাহাজভাঙা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় EPR নির্দেশিকা চূড়ান্ত হয়েছে এবং একবার ব্যবহারযোগ্য কিছু প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। রাসায়নিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা খসড়াও প্রস্তুত।
তিনি UNEA-7–কে রাসায়নিক ও প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনায় প্রতিরোধ, নিরাপদ বিকল্প এবং সার্কুলার অর্থনীতিনির্ভর জীবনচক্রভিত্তিক সমন্বিত পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।