
দেশে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার হার বরিশাল বিভাগে। সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী এ বিভাগে সাক্ষরতার হার ৮৪.৩ শতাংশ। এ শিক্ষার হার যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণে দেশের রোল মডেল হতে পারে বরিশাল। এ জন্য সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সচেতন নাগরিকদের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে তামাকের ক্ষতিকর বিষয়গুলোর নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের লঙ্ঘন হলে যথাযথভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে।
আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলে আয়োজিত ‘বরিশাল কনফারেন্স অন টোব্যাকো অর হেলথ ২০২৬’ এ বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘তামাকজাত দ্রব্য (সিগারেট, বিড়ি, ই-সিগারেট, জর্দা, গুল, সাদাপাতা ইত্যাদি) ব্যবহার করতে চাই নাকি সুস্থ-সুন্দর স্বাস্থ্য ও জীবন চাই’ এই স্লোগানে আয়োজিত এ সম্মেলনটি সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলমের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে উদ্বোধনী অধিবেশন শুরু হয়। অনুষ্ঠানে ‘Tobacco-Free Bangladesh by 2040: From Political Commitment to Effective Implementation’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটির নির্বাহী পরিচালক ও বিসিটিওএইচ ২০২৬-এর সদস্য সচিব এ কে এম মাকসুদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বশির গাজী, বরিশাল বিভাগের সাবেক স্বাস্থ্য পরিচালক ড. মো. মাহবুবুর রহমান, উন্নয়ন সংস্থা সেতু’র পরিচলক আবদুল কাদের, ঢাকা আহসানিয়া মিশনের পরিচালক (হেলথ এন্ড ওয়াশ) ইকবাল মাসুদ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আখতারুজ্জামান খান, বরিশালের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাশফিয়া কবীর ঐশী, উন্নয়ন সংস্থা স্পিড ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক এএইচএম সামসুল ইসলাম দীপু ও সেইন্ট বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর কবির। সম্মেলনে সমাপনী বক্তব্য দেন অর্গানাইজিং কমিটির আহ্বায়ক শুভঙ্কর চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটির প্রজেক্ট কো- অর্ডিনেটর এ বি কে রেজা বরিশালে তামাক নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম ও উদ্যোগ এবং সেতু’র প্রজেক্ট ডিরেক্টর শাগুফতা সুলতানা তামাক নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় সরকারের নির্দেশিকা নিয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে বক্তারা তরুণ সমাজকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত সামাজিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমান তামাক নিয়ন্ত্রণে জাতীয় জোটের ভূমিকা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ফাহমিদা ইসলাম ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে তরুণদের ওপর তামাক শিল্পের প্রভাব তুলে ধরেন। এছাড়া ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞ শাহ আলম খলিফা ও রফিকুল ইসলাম পান্না। উন্মুক্ত আলোচনা শেষে কো-চেয়ার ড. সুপ্রভাত হালদার ও সেশন চেয়ার ইকবাল মাসুদ সমাপনী বক্তব্য দেন।
দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে তামাক নিয়ন্ত্রণ, করনীতি ও সচেতনতা বিষয়ক ৩টি গবেষণা ও প্রবন্ধ উপস্থাপন হয়। বিসিসিপির গবেষক মো. জাকারিয়া হাবিব স্থানীয় তথ্য-প্রমাণ তৈরি, নাটাবের প্রজেক্ট ম্যানেজার ফিরোজ আহমেদ যক্ষ্মা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক গবেষণা ব্যুরোর সিনিয়র কমিনিউকেশন অফিসার ইব্রাহীম খলিল বাজেট প্রস্তাবে ‘ও তদুর্ধ্ব’ শব্দের অপপ্রয়োগ ও মূল্য কাঠামোর ত্রুটি, ডাস এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোয়াজ্জেম হোসেন টিপু তামাকমুক্ত নৌপরিবহন ব্যবস্থা এবং মোহাম্মদ জাবির বিন সোলাইমান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তামাকমুক্ত ক্যাম্পাস নীতি নিয়ে গবেষণা উপস্থাপন করেন।
সম্মেলনটি পরিচালনা করেন গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটির প্রোগ্রাম অফিসার সাদিয়া রহমান এবং রাফিয়া ইসলাম।