
টানা চার দিন ‘মাঝারি’ অবস্থানে থাকার পর ছুটির দিনে ফের অবনতি ঘটেছে ঢাকার বায়ুমানে। শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল ৯টায় ঢাকার একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) স্কোর ছিল ১০২, যা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এর ফলে ঢাকার অবস্থান ফের উঠে এসেছে বিশ্বব্যাপী দূষিত বাতাসের শহরগুলোর শীর্ষ তালিকায়। আজ বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান দশম। গতকাল (২৬ জুন) এ তালিকায় ছিল ৩৮তম, আর তার আগের দিনগুলোতে আরও নিচে। অর্থাৎ, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে উন্নতির ধারা থাকলেও আজকের অবস্থান বেশ হতাশাজনক।
ঢাকার একিউআই স্কোর ছাড়াও আজ দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই (১৭৩), দ্বিতীয় পাকিস্তানের লাহোর (১৬৫), তৃতীয় কঙ্গোর কিনশাসা (১৫৯), চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে আছে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৫৪) ও চিলির সান্তিয়াগো (১৫২)। তুলনামূলকভাবে ভারতের দিল্লিতে আজ বায়ুমান উন্নত হয়েছে; ৭৯ স্কোর নিয়ে শহরটি রয়েছে ২১তম স্থানে এবং ‘মাঝারি’ শ্রেণিতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকলে সেটি সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। এ অবস্থায় শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে পরিশ্রম না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ১৫১ থেকে ২০০ হলে বায়ু ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’, আর ৩০১-এর বেশি হলে সেটিকে ‘বিপজ্জনক’ বলা হয়।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারিত হয় পাঁচ ধরনের বায়ুদূষণের উপাদানের ভিত্তিতে— বস্তুকণা (পিএম২.৫ ও পিএম১০), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (NO₂), কার্বন মনো-অক্সাইড (CO), সালফার ডাই-অক্সাইড (SO₂) এবং ওজোন (O₃)।
পরিবেশবিদরা বলছেন, ঢাকার দূষণ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগজনক। শীতকালে বায়ুমান সবচেয়ে খারাপ থাকে, আর বর্ষাকালে কিছুটা উন্নতি হয়। তবে হঠাৎ করে ছুটির দিনে এমন অবনতি শহরবাসীর জন্য উদ্বেগের বিষয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর অন্যতম কারণ স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, যানবাহনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণকাজের ধুলা দমন ও শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা ছাড়া এই পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।