
আজ রাতেই আকাশে দেখা মিলবে বছরের সবচেয়ে বড় ও উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ- সুপারমুন। এই বিশেষ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীরা মুখিয়ে আছেন।
২০২৫ সালের ধারাবাহিক তিনটি সুপারমুনের মধ্যে এটি দ্বিতীয়টি। একই রাতে যুক্তরাজ্যে পালিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘বনফায়ার নাইট’, ফলে আজকের রাত হবে আলো, রঙ ও ঝলকের এক অনন্য সমাহার।
চাঁদ যখন তার উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে আসে, তখনই তৈরি হয় সুপারমুনের মুহূর্ত- যাকে বলা হয় ‘পেরিজি’। এ অবস্থায় চাঁদ সাধারণ পূর্ণিমার চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বড় এবং ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল দেখা যায়।
চাঁদের কক্ষপথ পুরোপুরি বৃত্তাকার নয়। তাই কখনো এটি পৃথিবীর কাছে (পেরিজি) আবার কখনো দূরে (অ্যাপোজি) অবস্থান করে। পেরিজিতে চাঁদের দূরত্ব থাকে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মাইল, আর অ্যাপোজিতে তা বেড়ে যায় ২ লাখ ৫০ হাজার মাইল পর্যন্ত।
‘সুপারমুন’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন জ্যোতিষী রিচার্ড নোল ১৯৭৯ সালে। তিনি এই নাম দেন সেই সময়ের পূর্ণিমা চাঁদকে, যখন সেটি পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটে অবস্থান করে।
নভেম্বরের এই সুপারমুনকে বলা হয় ‘বিভার মুন’। উত্তর আমেরিকার আদিবাসী ও প্রাচীন ইউরোপীয় সংস্কৃতিতে শতাব্দী ধরে এই নাম প্রচলিত- কারণ, এ সময় বিভাররা শীতের প্রস্তুতি হিসেবে বাঁধ তৈরি ও খাদ্য মজুত করতে ব্যস্ত থাকে।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আজ রাতেই খালি চোখে দেখা যাবে বছরের সবচেয়ে উজ্জ্বল পূর্ণিমা। আকাশ পর্যবেক্ষণপ্রেমীদের জন্য এটি হবে এক অপূর্ব মহাজাগতিক উপহার।
প্রসঙ্গত, এ বছরের শেষ সুপারমুন দেখা যাবে আগামী ৪ ডিসেম্বর।