
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার বাসিন্দারা বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘদিনের ড্রেনেজ ও সড়ক ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার কারণে জলাবদ্ধতা ও ময়লা পানি জমে চলাচলে ব্যাপক সমস্যা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছেন। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে বুজরুকগড়গড়ী বনানীপাড়া, শান্তিপাড়া, সবুজপাড়া, সাদেক আলী মল্লিকপাড়া, পলাশপাড়া, গুলশানপাড়া, মুক্তিপাড়া, দক্ষিণ হাসপাতালপাড়া ও মসজিদপাড়া এলাকাগুলোর অবস্থা সবচেয়ে করুণ।
সড়কের পিচ উঠে যাওয়া, বড় বড় গর্ত, ভেঙে যাওয়া ড্রেন এবং ড্রেনের মুখে আবর্জনার স্তূপ জমার ফলে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যা বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ছে। পলাশপাড়ার বাসিন্দা পিয়াল খান বলেন, “বর্ষা এলেই আতঙ্কের সৃষ্টি হয়, রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়, রাতে শিশু নিয়ে চলাচল দুঃসাহসিক হয়ে ওঠে।” গুলশানপাড়ার মুস্তাফিজুর রহমান কনক অভিযোগ করেন, “তিন বছরেও ড্রেন পরিষ্কার হয়নি, বর্ষায় পুরো এলাকা ডুবে থাকে।”
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান জানান, ড্রেন প্রশস্তকরণ ও পুনঃনির্মাণের জন্য চারটি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে, যার মোট বরাদ্দ ৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। তিনি জানান, কাজ শুরু হয়েছে এবং অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রেজাউল করিম বলেন, ঠিকাদারদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে জনভোগান্তি না বাড়ে এবং পৌর প্রশাসন নিয়মিত কাজের তদারকি করছে।
তবে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই আজকের করুণ অবস্থা। অপরিকল্পিত উন্নয়ন, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ড্রেন পরিষ্কার না করায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা দাবি করছেন, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত রুটম্যাপ ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ১৯৭২ সালে তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে বর্তমানে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। পৌরবাসী এখন কার্যকর, সুপরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নসহ প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়, যা তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেবে।