ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৫ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলের বেশিরভাগ নদ-নদী মৃতপ্রায়

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২১ নভেম্বর ২০২৪, ১:৩৩ বিকাল

Link Copied!

উৎসমুখে বাঁধ, নদীর পাড় দখল করে অবৈধ স্থাপনা তৈরি, শিল্প কারখানার দূষণ এবং খনন না হওয়াসহ নানা কারণে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার অধিকাংশ নদ-নদী এখন মৃতপ্রায়। ভারতের দেয়া ফারাক্কা বাঁধের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে এগুলোর পানিপ্রবাহ। ফলে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জেলেদের জীবিকার পথও কমে আসছে। আর নদীগুলো বাঁচাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উদ্যোগ কেবল পরিকল্পনাতেই সীমাবদ্ধ।

পানি প্রবাহ নেই বললেই চলে কুষ্টিয়ার কালীগঙ্গা নদীতে। এ অঞ্চলে নদীর তীরঘেঁষে রয়েছে সড়ক ও রেলপথ; গড়ে ওঠেছে নানা অবৈধ স্থাপনা। এতে পানিপ্রবাহ বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে কুমার নদের ওপর। শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ এলাকার ত্রিমোহনী এক সময় খরস্রোতা থাকলওে এখন নদীর বুকে করা হচ্ছে চাষাবাদ, চরানো হচ্ছে গরু।

চুয়াডাঙ্গায় উৎসমুখ বন্ধ থাকায় শুকিয়ে খাল হয়ে গেছে নবগঙ্গা। ভরাট আর দখল হয়ে যাওয়ায় দিন দিন অস্তিত্ব হারাচ্ছে এ অঞ্চলের অন্তত ২০টি নদ-নদী। পলির অব্যবস্থাপনার কারণে নদীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। ফলে এসব অঞ্চলে কৃষকরা ফসল ফলাতে পারছেন না, আর আয় কমে গেছে মৎস্যজীবীদের।

এদিকে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার বুক চিরে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা ভৈরব নদ অনেকটাই পরিণত হয়েছে মরা খালে। এ নদী দিয়ে এক সময় বড় বড় জাহাজের মাধ্যমে বণিকরা ব্যবসা করতেন এ অঞ্চলে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বন্ধ হয়ে গেছে নদীকেন্দ্রীক বাণিজ্যও।

এদিকে, নাব্যতা ফেরাতে এসব নদীতে বিভিন্ন সময়ে পাউবো কোটি টাকা খরচ করে খনন কাজ করলেও বছর না ঘুরতেই আবারও ভরাট হয়ে যায় বলে অভিযোগ পরিবেশবিদদের। শুধু খনন নয়, নদী বাঁচাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় বাঁধ নির্মাণ এবং সব নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা জরুরি বলেও মনে করেন তারা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এসব নদীর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে বলে আসছি। কোন সমাধান হয় না। কখনও কখনও ছোট ছোট আকারে খনন প্রকল্প নেয়া হয়, সেখানে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা খরচ হয়; কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। বছর না ঘুরতেই আবারও নদী শুকিয়ে যায়।’

এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, উজান থেকে পানি আনার ব্যবস্থা করতে হবে। ফারাক্কা বাঁধ সমস্যার মূল কারণ। আন্তর্জাতিকভাবে এটি সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। তবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ আর খননে পাউবো বরাবরের মতো পরিকল্পনার কথায় জানায়।

কুষ্টিয়া পাউবোর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ বলেন, ‘এসব নদীর সমস্যা সমাধানে আমাদের নিয়মিত উদ্যোগ রয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য আমরা তালিকা তৈরি করেছি। রেলওয়ে ও সড়ক বিভাগের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। আশা করছি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে সব সমস্যার সমাধান হবে।’

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

নওগাঁয় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু

সপ্তাহজুড়ে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া? জানাল অধিদপ্তর

স্তনবৃন্তে স্পর্শ করলেই কেন হঠাৎ মন খারাপ, কী এই ‘স্যাড নিপল সিনড্রোম’?

upay Rewards Three Distributor Partners with Umrah Packages under ‘Shopner Umrah 2026’ Campaign

উপায়ের ‘স্বপ্নের ওমরাহ’ ক্যাম্পেইনে পুরস্কার পেলেন ৩ ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার

সাতক্ষীরায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য সংকটে

মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা