
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদী — তিস্তা, জিঞ্জিরাম, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে জানা গেছে, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরবর্তী দলদলিয়া, থেতরাই, বেগমগঞ্জ, মোল্লারহাট, সরিষাবাড়ী ও বিদ্যানন্দ এলাকাগুলোতে ফসলি জমি ডুবে গেছে। এতে পাকা ও আধা-পাকা ধান, কাউন, পেঁয়াজ, বাদামসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অপরিপক্ব ফসল কাটতে বাধ্য হচ্ছেন।

রাজারহাটের তিস্তাপাড়ের কৃষক মো. ফয়জার আলী জানান, “আর ১৪ দিন গেলে বাদাম উঠাইতাম, কিন্তু হঠাৎ পানিতে সব ডুইবা গেল।” একইভাবে কৃষক হবিবর রহমান বলেন, “আমার ৫ বিঘা জমির কাউন ডুবে গেছে, অনেক টাকার ক্ষতি হইছে।”
অন্যদিকে, ব্রহ্মপুত্র নদে পানিবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মোল্লারহাট এলাকায় ইতোমধ্যে দেড়শত বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিদ্যুতের খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঝুঁকির মুখে রয়েছে আরও প্রায় তিনশত পরিবার। নদীভাঙনের আতঙ্কে স্থানীয়রা গাছ কেটে ফেলছেন, ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন।

উলিপুরের বাসিন্দা আছিয়া বেগম বলেন, “আমার ১৫ বিঘা জমি, ভিটেমাটি সব ভাঙছে, এখন আত্মীয়ের বাসায় থাকতেছি।”
সাজু মিয়া নামের এক স্থানীয় জানান, “এই প্রথমবার নদীভাঙনে আমার ঘর-বাড়ি, বাগান সব গেল। কোনো প্রস্তুতি নিতে পারিনি।”
এদিকে, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে আগামী পাঁচ দিন তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে নিচু চরাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে আগামী এক সপ্তাহে বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল ইসলাম।
নদীভাঙন ও আকস্মিক পানিবৃদ্ধিতে কুড়িগ্রামের বহু মানুষ গৃহহীন ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পুনর্বাসন ও কৃষকদের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দিচ্ছেন স্থানীয়রা, যেন প্রতিবছর এমন দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি বন্ধ হয়।