
দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের পাশাপাশি উজানে ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম অঞ্চলেও ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে, যার ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে আজ শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড)।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার পাটেশ্বরী এলাকায় ১০৬.০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত পরিমাপ করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় (উল্লেখযোগ্য: নোয়াখালী ৫৫.০ মিমি) মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে উজানে ত্রিপুরার কৈলাশহর এলাকায় ৯৬.০ মিমি এবং আসাম প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় (১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত) রংপুর বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিলেট বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে মেঘালয়, ত্রিপুরা, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এ সময় তিস্তা নদী বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং লালমনিরহাট, নীলফামারি, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
এছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সমতল আগামী ২৪ ঘণ্টা স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী চার দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতলও আগামী পাঁচ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে, তবে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে।
সুরমা নদী ও কুশিয়ারা নদীর পানির সমতলও আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।
রংপুর বিভাগের টাঙ্গন নদী, পুনর্ভবা নদী, আপার আত্রাই নদী, আপার করতোয়া নদী ও ঘাঘট নদী এবং সিলেট-ময়মনসিংহ বিভাগের মনু নদী, ধলাই নদী, সোমেশ্বরী নদী, সারিগোয়াইন নদী, যাদুকাটা নদী, খোয়াই নদী, জিঞ্জিরাম নদী, ভুগাই নদী ও কংস নদীর পানিও আগামী তিন দিন বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ অবস্থায় জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।