ইন্দোনেশিয়ায় মালাক্কা প্রণালীতে সৃষ্ট বিরল ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আচেহ, উত্তর ও পশ্চিম সুমাত্রায় ভয়াবহ বন্যা নেমে এসেছে। গত সপ্তাহে আঘাত হানা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১৪ লাখ মানুষ প্রভাবিত হয়েছে এবং মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে।
বন্যার পানি কাঁদা রাস্তাঘাট ও ভেঙে পড়া ব্রিজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে লড়াই করছেন উদ্ধারকর্মীরা। শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায়রা ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছে, আর খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।
আচেহ প্রদেশের অধিবাসী আমালিয়া বলেন, “বন্যার পানি অনেকটা সুনামির মতো মনে হয়েছে। এটা আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা।” মধ্য আচেহ এলাকায় স্টারলিংক ডিভাইস দিয়ে মানুষ যোগাযোগের চেষ্টা করছে, কেউ কেউ মোবাইল চার্জ করার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
পশ্চিম সুমাত্রার টুইন ব্রিজ ল্যান্ডমার্ক এলাকায় খননযন্ত্র দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে দেখা গেছে মারিয়ানাকে, যিনি নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের খুঁজে পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন। এছাড়া উত্তর সুমাত্রার মধ্য তাপানুলিতে খাদ্য ও ত্রাণ পেতে মানুষ কয়েক কিলোমিটার হেঁটে যাচ্ছেন।
বন্যা মোকাবিলায় সরকারের তৎপরতা বাড়লেও সমালোচকরা বলছেন, প্রস্তুতি কম ছিল এবং খাদ্য সাহায্য বিতরণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দেখা দিয়েছে।
সোমবার ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর সুমাত্রা পরিদর্শন করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, কিছু সড়ক এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে, তবে দেশব্যাপী দুর্যোগ মোকাবিলায় সবকিছু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা দৃঢ়তা ও সংহতি নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি। এই দুর্যোগ থেকে উত্তরণে জাতি হিসেবে আমরা শক্তিশালী।”
সম্পূর্ণ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে গত সপ্তাহে বন্যা ও ভূমিধসে মারা গেছেন প্রায় ১১০০ জন, যার মধ্যে শ্রীলঙ্কায় ৩৫৫ এবং থাইল্যান্ডে ১৭৬ জন। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এই ভয়াবহ বন্যার জন্য একক কোনো আবহাওয়ার ঘটনা দায়ী নয়; বরং বিভিন্ন আবহাওয়াজনিত কারণ মিলিত হয়ে এ বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।


