হিমালয় থেকে নেমে আসা হিমেল বাতাস ও উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শীতের দাপট আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। জানুয়ারির মাঝামাঝিতেই দিনাজপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও চুয়াডাঙ্গাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকার পাশাপাশি নতুন এলাকায় বিস্তার লাভ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এতে বলা হয়,আজ সারাদেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এ সময় সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, ফলে শীতের অনুভূতি আরও বাড়বে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকার এলাকায় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্য এলাকাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে শৈত্যপ্রবাহের কারণে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বজায় থাকবে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) আকাশ আংশিক মেঘলা ও আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এদিন রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। এতে দিনের বেলায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও ভোর ও রাতের শীত অনুভূত হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। ফলে দিনের শুরু ও শেষে কনকনে শীত অনুভূত হতে পারে। এদিনও শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কিছু কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত সারাদেশে আংশিক মেঘলা আকাশ ও শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এদিন সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়েছে, এ সময়ের শুরুতে রাত ও দিনের তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। তবে তার আগ পর্যন্ত উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় শীতজনিত দুর্ভোগ কমার সম্ভাবনা নেই। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য শীত মোকাবিলায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


