ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

হাম-রুবেলার টিকা জরুরি যে কারণে

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৪ এপ্রিল ২০২৫, ৫:২৮ বিকাল

Link Copied!

সারা দেশে ৯ মাস থেকে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ১২ই ডিসেম্বর থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত হাম-রুবেলার টিকা দেওয়ার বিশেষ কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। যে সব শিশুর ইতোমধ্যে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে, তারাও এই কর্মসূচির আওতায় থাকবে। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের মহামারির সময় যে সব শিশুকে ঠিক মতো সব টিকা দেওয়া যায়নি, তাদের অবশ্যই এই টিকা দেওয়া উচিত।

এই কর্মসূচীর উদ্দেশ্য হলো, একই সময়ে, একই সঙ্গে সব শিশুকে হাম-রুবেলার এই টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে দুই ধরনের হামের ভাইরাসের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এতে শিশু মৃত্যুর হার যেমন কমবে, একই ভাবে জটিলতা ও ভোগান্তিও কমবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো, কন্যা শিশুদের হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া নিশ্চিত করে ‘কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোম’ ঠেকানো। কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোমে আক্রান্ত শিশুর মারাত্মক জন্মগত হৃদযন্ত্র, চোখ ও শ্রবণশক্তির ত্রুটি থাকে।

হাম, মূলতঃ দুই ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণে হয়ে থাকে: রুবিওলা ও রুবেলা।

রুবিওলা ভাইরাস: এই ভাইরাসের সংক্রমণে সৃষ্ট হাম খুবই ছোঁয়াচে। ভাইরাসটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে আক্রান্ত শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা ভেঙে নিউমোনিয়া, কান-পাকা, মস্তিষ্কে সংক্রমণ, ভিটামিন এ ঘাটতিজনিত অন্ধত্ব থেকে শুরু করে নানা ধরনের জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এমনকি শিশুকে মৃত্যুঝুঁকিতেও ফেলে দিতে পারে এই ভাইরাস।

রুবেলা ভাইরাস: এ ধরনের হামে উপসর্গ সাধারণত কম থাকে। অনেক অভিভাবক বুঝতেই পারেন না যে সন্তানের রুবেলা হাম হয়েছে। যদি কোন মা গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এই ভাইরাসে সংক্রমিত হন, তাহলে গর্ভের শিশুর বা ভ্রুণের মৃত্যু, গর্ভপাত হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, অনেক শিশু হৃদযন্ত্র, চোখ ও শ্রবণশক্তির অনিরাময়যোগ্য মারাত্মাক ত্রুটি নিয়ে জন্ম নিতে পারে, যা কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোম নামে পরিচিত।

হাম-রুবেলার সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুকে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে ২ বার এম. আর টিকা দেওয়া হয়। তারপরও শিশু আগে টিকা পাক বা না পাক বর্তমানে চলমান টিকা কর্মসূচীর আওতায় শিশুকে টিকা নিতে হবে। শিশুর শরীরে (বিশেষ করে কন্যা শিশুদের) যাতে কোনোভাবেই হাম-রুবেলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধে ঘাটতি না পড়ে, সে জন্যই এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচী। এ টিকার তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।

টিকাটি নিলে সব শিশুর শরীরে রুবিওলা ও রুবেলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এক সঙ্গে প্রতিরোধ (হার্ড ইমুনিটি) গড়ে উঠবে। এতে ভাইরাসের সংক্রমণ শৃঙ্খল ভেঙে হামের সংক্রমণ কমে যাবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কন্যা শিশুদের শরীরে (যারা আগামী দিনের মা হবে) রুবেলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। যা আগামী দিনের শিশুদের কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রমের ঝুঁকি থেকে মুক্তি দেবে। তাই শিশুকে আগে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হোক বা না হোক, বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে এ টিকা দেয়া উচিৎ হবে।

নোট: শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যপক ডা: মো: আবিদ হোসেন মোল্লার লিখিত ‘শিশু স্বাস্থ্যের খুঁটিনাটি’ বই থেকে নেওয়া হয়েছে তাঁর অনুমতিক্রমে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

নওগাঁয় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু

সপ্তাহজুড়ে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া? জানাল অধিদপ্তর

স্তনবৃন্তে স্পর্শ করলেই কেন হঠাৎ মন খারাপ, কী এই ‘স্যাড নিপল সিনড্রোম’?

upay Rewards Three Distributor Partners with Umrah Packages under ‘Shopner Umrah 2026’ Campaign

উপায়ের ‘স্বপ্নের ওমরাহ’ ক্যাম্পেইনে পুরস্কার পেলেন ৩ ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার

সাতক্ষীরায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য সংকটে

মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা