
যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় ল্যান্ডমাইন ও যুদ্ধের পরিত্যক্ত বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করতে তিন বছর মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশটির প্রথম ‘জাতীয় মাইন ম্যাপ’ উন্মোচন করতে যাচ্ছে সিরীয় কর্তৃপক্ষ। মাইন আক্রান্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করা, সাধারণ নাগরিকদের রক্ষা করা এবং দেশের পুনর্গঠন কাজকে ত্বরান্বিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সিরিয়ার জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী রায়েদ আল-সালেহ বলেন, সিরিয়ার ‘ন্যাশনাল মাইন অ্যাকশন সেন্টার’ এই তিন বছর মেয়াদী কৌশল বাস্তবায়ন করছে, যার মূল লক্ষ্য মাইন সংক্রামিত এলাকাগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং ঝুঁকি মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপকে জোরদার করা।
আল-সালেহ আরো উল্লেখ করেন, ল্যান্ডমাইন এবং অবিস্ফোরিত গোলা-বারুদ বর্তমানে সিরিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। এটি বেসামরিক নাগরিক ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হওয়ার পাশাপাশি দেশটির ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমি ব্যবহার ও সার্বিক পুনর্গঠন কাজকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। জার্মানি এবং ইউক্রেনের সঙ্গে পারস্পরিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাইন অপসারণের কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
এছাড়া, সীমান্ত অঞ্চলে অগ্নিকাণ্ড, বন্যাসহ যেকোনো প্রাকৃতিক বা মানবিক দুর্যোগ দ্রুত মোকাবেলায় তুরস্কের সঙ্গে একটি যৌথ ‘জরুরি অপারেশন রুম’ খোলার বিষয়ে কাজ চলছে বলেও জানান মন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার সাবেক আসাদ সরকারের চালানো দীর্ঘ যুদ্ধের সময়কার পুঁতে রাখা মাইন ও অবিস্ফোরিত বোমায় প্রতিনিয়তই মানুষ মারা যাচ্ছেন ও পঙ্গুত্ব বরণ করছেন। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে নতুন কর্তৃপক্ষ এবং ‘ল্যান্ডমাইন মনিটর’ ও রেড ক্রসের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো যৌথভাবে মাইন শনাক্তকরণ ও নিষ্ক্রিয়করণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
‘ল্যান্ডমাইন মনিটর’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের পর থেকে সিরিয়ায় ল্যান্ডমাইন ও যুদ্ধাবশেষের বিস্ফোরণে ১৩ হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন।
সূত্র: আন্তর্জাতিক মাইন নজরদারি সংস্থা ‘ল্যান্ডমাইন মনিটর’।