
শিশুকাল মানেই দুরন্তপনা। এ সময় অসাবধানতাবশত নানা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যা কখনো কখনো বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু কিছু পদক্ষেপ নিতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা এড়ানো যায়।
কিছু খেয়ে ফেললে বা শ্বাসনালিতে আটকে গেলে
শিশু কৌতূহলবশত কোনো জিনিস খেয়ে ফেললে তা যদি অগ্রে চলে যায়, তবে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু বিপত্তি হয় যদি তা শ্বাসনালিতে আটকে যায়। এবং অনেক ক্ষেত্রে শিশু দমবন্ধ হয়ে মারা যেতে পারে।
করণীয়:
১. শিশু যদি শ্বাস নিতে পারে এবং জোরে কাশি দিতে পারে, তাহলে তাকে কাশি দিতে উৎসাহিত করুন।
২. কাশি দিতে সমর্থ না হলে মুখ হা করিয়ে গলায় আঙুল দিয়ে সেখানে আটকে থাকা বস্তুটি বের করার চেষ্টা করতে হবে।
৩. শিশুর মাথা নিচের দিকে রেখে পিঠের দুই পাখনা হাড়ের মাঝ বরাবর মেরুদন্ডের ওপর হাত দিয়ে চাপ বা আঘাত করতে হবে। অথবা শিশুকে দাঁড় করিয়ে তার পেছনে দাঁড়িয়ে বগলের তলা দিয়ে হাত সামনে নিয়ে বুকের হাড়ের ওপর চাপ দিতে হবে এবং ওপরের দিকে ধাক্কা দিতে হবে।
৪. জরুরী ভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।
ওপর থেকে নিচে পড়ে গেলে কিংবা ভারী কিছু মাথার ওপর পড়লে প্রথমেই খেয়াল করুন শিশুর চেতনা আছে কি না। যদি অচেতন হয়ে পড়ে, তাহলে শিশুর মাথার দিকটা একটু নিচু রেখে ঘাড়টা সোজা করে একটু কাত করে শোয়াতে হবে, নাক ও মুখের ভেতরের লালা পরিষ্কার করে দিতে হবে, এ সময় কোনো খাবার দেওয়া যাবে না এবং তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিতে হবে।
বিষাক্ত কিছু খেয়ে ফেললে
১. দ্রুত খোলামেলা জায়গায় নিয়ে শিশুর পরণের কাপড় খুলে ফেলতে হবে।
২. নাক ও মুখের ভেতর পরিষ্কার করে স্বাভাবিক শ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩. শ্বাস-প্রশ্বাস না নিলে মুখ থেকে মুখে কৃত্রিম শ্বাস দিতে হবে এবং তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিতে হবে।
৪. শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিষাক্ত জিনিসের নমুনা সঙ্গে নিলে তা দেখে চিকিৎসা দেওয়া কর্মরত ডাক্তারের জন্য সহজ হবে।
৫. শিশুর চেতনা থাকলে গলায় আঙুল দিয়ে বমি করাতে হবে। বমি করানোর পর ঠাণ্ডা পানি, দুধ বা স্যালাইন খাওয়ানো ভালো হবে।
৬. কেরোসিন অথবা পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ খেয়ে ফেললে বমি করানো অথবা নল দিয়ে পাকস্থলী পরিষ্কার করানো যাবে না।
৭. তেঁতুল গোলা, গোবর এগুলো কিছুতেই খাওয়ানো যাবে না।
কেটে গেলে
১. রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ক্ষতস্থান শক্ত করে চেপে উঁচু করে ধরতে হবে।
২. ক্ষতস্থানের ওপর পরিষ্কার কাপড় দিয়ে শক্ত করে ব্যান্ডেজ বাঁধতে হবে। যদি রক্ত পড়া বন্ধ না হয়, তবে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
৩. কাটা-ছেঁড়া অল্প হলে আঘাতের স্থান পানি দিয়ে ভালভাবে পরিষ্কার ও শুকনো করে জীবাণুনাশক ক্রিম লাগাতে হবে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
গরম পানিতে বা আগুনে পুড়ে গেলে
১. গরম পানি, গরম চা, গরম দুধ, গরম খাবার তৈরী, পরিবেশন ও ব্যবহারে সাবধানী হোন। কোনক্রমেই যেন শিশুরা এগুলোর নাগালে না আসতে পারে।
২. পানি গরম করে হাড়িতে না নিয়ে বালতিতে নিন।
৩. দগ্ধ হলে, মাথা ঠান্ডা রাখুন। পোড়া জায়গায় স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি অল্প অল্প করে ১০-১৫ মিনিট ঢাললে জ্বালা-পোড়া, ব্যথা কমে যাবে।
৪. ক্ষতস্থানে টুথপেষ্ট, কাঁচা ডিম, বাটা হলুদ, মশলা, ডাল, ফ্রিজের ঠান্ডা পানি, বরফ লাগাবেন না।
৫. ক্ষতস্থানে যে কোন Antibiotic ointment লাগাবেন। অন্যকিছু নয়।
৬. দ্রুত নিকটস্থ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবেন, ক্ষতের ব্যাপ্তি কেমন তা পরীক্ষা করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য।
নোট: শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যপক ডা: মো: আবিদ হোসেন মোল্লার লিখিত ‘শিশু স্বাস্থ্যের খুঁটিনাটি’ বই থেকে নেওয়া হয়েছে তাঁর অনুমতিক্রমে।