
প্রায় ১৪ মাস পর সারাদেশে শুরু হচ্ছে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন। শিশুদের অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টিহীনতা দূর করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দেশব্যাপী একযোগে ক্যাম্পেইনটি অনুষ্ঠিত হবে।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি জানান, নির্ধারিত দিনে কোনো শিশু বাদ পড়লে পরদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে। এছাড়া ১২টি জেলার ৫৮টি দুর্গম উপজেলায় আরও চারদিন ক্যাম্পেইন চলবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভিটামিন এ-এর অভাব শিশুদের রাতকানা ও অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
তিনি জানান, ক্যাম্পেইন পরিচালনায় সারাদেশে ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি জনবহুল এলাকায় আরও ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
ড. এম এ মুহিত বলেন, দুই দশক আগে দেশে ভিটামিন এ-এর অভাবে অনেক শিশু অপুষ্টিজনিত অন্ধত্বের শিকার হতো। নিয়মিত ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণের ফলে এ ধরনের অন্ধত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
তিনি আরও জানান, ক্যাম্পেইনের জন্য ইউনিসেফ থেকে ৪০ লাখ নীল রঙের এবং ২ কোটি ২০ লাখ লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, তীব্র বা জটিল অসুস্থতা ছাড়া ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশু এই ক্যাপসুল খেতে পারবে।
একই সঙ্গে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধু মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। এরপর মায়ের দুধের পাশাপাশি ধীরে ধীরে ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের ভিটামিন এ-সমৃদ্ধ খাবার বেশি পরিমাণে গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।