ঢাকাশনিবার , ২৭ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

রোগ প্রতিরোধে হেল্থ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনের আহ্বান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ৮:৪০ বিকাল

Link Copied!

চিকিৎসাপ্রধান স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বর্তমানে উপেক্ষিত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অপ্রতুলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের সহজলভ্যতা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বায়ুদূষণ, সর্বোপরি স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভাবে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। গত ১০ বছরে চিকিৎসা বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ গুণ। এ বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যয় বহন করা রাষ্ট্রের জন্য অসম্ভব হয়ে পরবে। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে হেল্থ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠন হতে পারে একটি কার্যকরী সমাধান। আজ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩, রবিবার, বেলা ১১:০০টায় সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রের ‘সত্যেন বোস’ সভাকক্ষে আয়োজিত “হেল্থ প্রমোশন বিষয়ক মতবিনিময় সভায়” বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থার কর্মসূচি প্রধান (টিসি, এনসিডি) সৈয়দা অনন্যা রহমান। সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হেল্থ রাইটস মুভমেন্ট এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. রশিদ ই মাহবুব, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স-এর পেশাগত ও পরিবেশগত স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. এম এইচ ফারুকী, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স, পথিকৃত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা: লিয়াকত আলী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: আবু জামিল ফয়সাল, হেলথব্রিজ ফাউন্ডেশন অব কানাডার সিনিয়র এডভাইজার দেবরা ইফরইমসন, প্রত্যাশা মাদক বিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ, প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) এর নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের, ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের প্রজেক্ট ম্যানেজার (তামাক নিয়ন্ত্রণ) হামিদুল ইসলাম, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর সহযোগী অধ্যাপক বজলুর রহমান, ডক্টর্স ফর হেলথ এন্ড এনভায়রনমেন্ট এর ডা. সুমাইয়া বিনতে শওকত।

সৈয়দা অনন্যা রহমান বলেন, শুধুমাত্র চিকিৎসার উপর জোর না দিয়ে মানুষকে সুস্থ রাখার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে একটি হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠন করার জন্য সরকারকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন পণ্য, যেমন- চিনিযুক্ত পানীয়, ব্যক্তিগত গাড়ি, বোতলজাত পানি, তামাক ইত্যাদির উপর কর আরোপ করে থাইহেলথ বা ভিকহেলথ এর মত আন্তর্জাতিক উদাহরণ অনুসরণ করে আমরা এগিয়ে যেতে পারি।

অধ্যাপক ডা. রশিদ ই মাহবুব বলেন, যুব সম্প্রদায়কে হেলথ প্রমোশন আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ বিষয়ে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া যাবে। বর্তমান ব্যবস্থায় হেলথ প্রমোশন গঠন সময় সাপেক্ষ বিষয়। হেলথ প্রমোশনের ব্যপ্তি বিবেচনায় সমাজ বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। ডা. এম এইচ ফারুকী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন সরকারের মন্ত্রণালয়ের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। তদরূপ হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশনও রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী উদ্যোগ রাখতে সক্ষম। এ সামাজিক আন্দোলনটি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে এবং বিভিন্ন সংগঠনকে এ কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।

ডা: লিয়াকত আলী বলেন, বর্তমান যে গবেষণাগুলো আছে সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে শক্তিশালী এডভোকেসি করতে হবে। সরকারি-বেসরকারিভাবে হেলথ প্রমোশন বিষয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম থাকলেও এর মধ্যে কোন সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনে সমন্বিত উদ্যোগের কোন বিকল্প নেই। ডা: আবু জামিল ফয়সাল বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এ কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। তাদের সাথে হেলথ প্রমোশনে উৎসাহিত করা হলে গ্রামাঞ্চলেও এ কর্মসূচিটি ছড়িয়ে দেয়া যাবে। চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে মনোযোগ সরিয়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করায় গুরুত্ব প্রদান আবশ্যক।

দেবরা ইফরইমসন বলেন, বাংলাদেশে অনেক ভালো ভালো উদ্যোগ এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আমরা দেথেছি। সকল অংশীদারদের অংশগ্রহণে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনে সফলতা অর্জন সম্ভব। থাইহেলথ ফাউন্ডেশন এর গঠন অনুসরণ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ফাউন্ডেশন গঠনে পরিকল্পনা নিতে হবে। হেলাল আহমেদ বলেন, হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশনের সাথে সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে আমাদের জনগণ অসুস্থ পড়ছে এবং চিকিৎসা ব্যয় ক্রমে বেড়ে চলেছে। সাধারণ জনগণ, বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজকে সম্পৃক্ত করে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

এ বি এম জুবায়ের বলেন, হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গঠনের ক্যাম্পেইনে সকল অংশীদারের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। এজন্য অংশীদারদের চিহ্নিত করে তাদের সাথে বছরব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে শক্তিশালী এডভোকেসি গড়ে তুলতে হবে। হামিদুল হিল্লোল বলেন, হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন আইনের অধীনে গঠিত একটি সংস্থা হলে তহবিল প্রাপ্তি এবং খরচ করা অনেক সহজ হবে। সেই সাথে গবেষণা কার্যক্রম আরো বেশি উৎসাহিত হওয়ায় একটি নলেজ হাব বা তথ্য ভান্ডার তৈরি হবে।

বজলুর রহমান বলেন, মানব স্বাস্থ্যের সাথে সম্পৃক্ত সকল বিষয়ে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন সমন্বয় সাধন করবে। নগর পরিকল্পনা, সক্রিয় যাতায়াত, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতিকর পণ্য নিরুৎসাহিতকরণসহ তারা বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

সভাপতির বক্তব্যে সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে একটি হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন প্রয়োজন সে ব্যাপারে আমাদের কোন দ্বিমত নেই এবং সারা দেশব্যাপী জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের এ আহ্বানটি ছড়িয়ে দিতে হবে। এ কারণে আমাদের ধারাবাহিক কিছু কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

 

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

রোববার শুরু ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন, ক্যাপসুল পাবে ২ কোটি ৩৫ লাখ শিশু

প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় আসছে বিশেষ প্রকল্প, বাজেটে থাকছে আলাদা বরাদ্দ

সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টির আভাস, কোথাও কোথাও হতে পারে ভারী বর্ষণ

Youth March Held to Mark the International Day against Drug Abuse and Illicit Trafficking

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে যুব পদযাত্রা অনুষ্ঠিত

Dhaka Ahsania Mission Honored with Two Awards for Outstanding Drug Prevention Efforts

মাদক প্রতিরোধে দুই পুরস্কার পেল ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন

গৎবাঁধা প্রকল্প নয়, পাহাড়ে চাই টেকসই উন্নয়ন: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

International Dialogue on Cybersecurity Begins as Phoenix Summit 2026 Opens in Dhaka

ঢাকায় সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংলাপ শুরু, ফিনিক্স সামিট ২০২৬ উদ্বোধন

Are you the next legend of OPPO Campus? Join OPPO Campus Ambassador to MAKE it

অপোর ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর প্রোগ্রাম শুরু, আবেদন চলছে