
এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পানি নিরাপত্তা জোরদার, বন্যা-খরা মোকাবিলা এবং পানি-সম্পর্কিত দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে নতুন একটি তহবিল প্রতিষ্ঠা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান সরকার। এ তহবিলে প্রাথমিকভাবে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার অনুদান দেবে জাপান।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাপানের টোকিওতে এডিবি ও জাপান সরকারের মধ্যে ‘ওয়াটার ইনিশিয়েটিভ ফর সিকিউরিটি, এফিশিয়েন্সি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স (উইজার) ফান্ড’ গঠনের চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বলেন, মানুষের জীবন ও টেকসই উন্নয়নের জন্য পানির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই। পানি ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হলে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করে।
তিনি বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ইতোমধ্যে দেখিয়েছে যে পানি নিরাপত্তায় অগ্রগতি সম্ভব। এখন আরও দ্রুত বিনিয়োগ ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।
নতুন উইজার ফান্ডের মাধ্যমে এডিবির উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোকে পানি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, বন্যা ও খরার মতো দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো, পানি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করা হবে।
জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পানি খাতে বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাপানের পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, স্যানিটেশন ও পানি-সম্পর্কিত দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ অভিজ্ঞতা এডিবির মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই তহবিল এডিবি ও জাপানের সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ২০২৭ সালে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এডিবির বার্ষিক সভার আগে দুই পক্ষের অংশীদারিত্বে নতুন গতি আনবে।
এডিবির তথ্য অনুযায়ী, বন্যা, ঝড় ও খরার দিক থেকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। বিশ্বে সংঘটিত প্রতি ১০টি বন্যার মধ্যে চারটিরও বেশি এ অঞ্চলে ঘটে। বর্তমানে এ অঞ্চলের প্রায় ২২ কোটি মানুষ নিরাপদ পানি সরবরাহ থেকে এবং ৫২ কোটি মানুষ মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
এডিবির সর্বশেষ এশিয়ান ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট আউটলুক অনুযায়ী, ২০১৩ সালের পর থেকে ২৭০ কোটি মানুষ চরম পানি নিরাপত্তাহীনতা থেকে বেরিয়ে এলেও পরিবেশগত অবক্ষয়, পানি-সম্পর্কিত ঝুঁকি এবং অবকাঠামো বিনিয়োগের ঘাটতি এই অগ্রগতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।
উইজার ফান্ডের মাধ্যমে পানি-সম্পর্কিত দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, টেকসই পানি অবকাঠামো, ডিজিটাল উদ্ভাবন, প্রকল্প প্রস্তুতি, নীতি সংস্কার, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান বিনিময়ে সহায়তা দেওয়া হবে।
এডিবি জানিয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি পানি খাতে ১২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষ উপকৃত হয়েছে। এছাড়া ‘ওয়াটার ফরোয়ার্ড’ উদ্যোগের আওতায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে আরও ১০ কোটি মানুষের কাছে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, সেচ এবং পানি-সংক্রান্ত অন্যান্য সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।