
টানা ভারী বৃষ্টি ও পানির প্রবল স্রোতে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাজিয়ালী গ্রামের একমাত্র যাতায়াত সেতু ধসে পড়েছে। এতে ওই সড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোগাছিয়া সালামিতের বিল ও সাজিয়ালী বাঁওড়ের পানি নিষ্কাশনের জন্য বহু বছর আগে একটি খাল খনন করা হয়। পরে খালের ওপর নির্মাণ করা হয় সেতুটি। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর আগে নির্মিত এ সেতুই ছিল এলাকার মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রায় দুই বছর আগে খাল পুনঃখননের পর সেতুর অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়ে। গত সপ্তাহের টানা ভারী বৃষ্টি ও পানির তীব্র স্রোতে শেষ পর্যন্ত সেতুর একটি বড় অংশ ধসে যায়।
সেতু ভেঙে যাওয়ায় চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন, সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ি, চুড়ামনকাটি বাজার, বারীনগর বাজার এবং যশোর শহরের সঙ্গে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বাধ্য হয়ে স্থানীয়দের বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে যাতায়াতে সময় ও খরচ—দুটিই বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এলাকার সবজি চাষিরা। সাজিয়ালী ইউনিয়নের অন্যতম সবজি উৎপাদনকারী এলাকা হওয়ায় মাঠ থেকে বাজারে কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সবজি চাষি মিন্টু গাজী বলেন, “ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় মাঠ থেকে হাটে সবজি নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছি।”
একই সঙ্গে অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকরাও সমস্যায় পড়েছেন। অনেকেই নিজেদের যানবাহন বাড়িতে নিতে পারছেন না।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে সীমিত আকারে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) আব্দুর রউফ বলেন, সেতু ধসে পড়ায় পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনাসহ সাধারণ মানুষের সেবা দিতে ঘুরপথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা বেশ কষ্টসাধ্য।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।