
ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও প্রবল বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বনাঞ্চল, জনপদ ও পর্যটন এলাকা পুড়ে যাচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। অন্যদিকে স্পেন সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তাও চেয়েছে দুই দেশ।
ফ্রান্সে ২ লাখ মানুষ সরিয়ে নেওয়া
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলে দাবানল সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটিতে প্রায় ২ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নতুন করে বোর্দো শহরের আশপাশ থেকে আরও ৬০ হাজার বাসিন্দাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ পুরোপুরি খালি করে দেওয়া হয়েছে। অনেকেই নৌকায় করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দাবানল মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছেন।
দমকল বাহিনীর প্রধান মার্ক ভারম্যুলেন বলেন, ২০২২ সালের ভয়াবহ দাবানলের চেয়েও এবার পরিস্থিতি বেশি বিপজ্জনক। দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে রাতেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
এ পর্যন্ত জিরন্দ অঞ্চলে ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং অন্তত ৮০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। আগুন নেভানোর সময় ৫০ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ জানান, আগুন বারবার দিক পরিবর্তন করায় বোর্দো শহর রক্ষায় নতুন কৌশলে অভিযান চালানো হচ্ছে।
স্পেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের কাছে একাধিক দাবানল একত্রিত হয়ে বিশাল অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, পরিস্থিতি এখন দমকল বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
এ অবস্থায় সরকার জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। অন্তত ২৫ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়তে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাদ্রিদ অঞ্চলে দাবানলে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ হাজারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ২০ হাজার মানুষ লকডাউনে রয়েছেন।
মাদ্রিদের আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো এটিকে অঞ্চলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, তীব্র তাপপ্রবাহ, প্রবল বাতাস ও বিভিন্ন দিক থেকে ছুটে আসা আগুন মিলেই এক ধরনের ‘পারফেক্ট স্টর্ম’ তৈরি করেছে।
জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান কার্লোস নোভিয়ো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি আগুন নেভানো সম্ভব নয়। তাই ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এ পর্যন্ত মাদ্রিদ অঞ্চলে ৬ হাজার হেক্টর এবং আভিলা প্রদেশে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা বলেন, দুটি বড় দাবানল এক হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই তা ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
এদিকে আভিলার বুর্গোহন্দো এলাকার দাবানলের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অবহেলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তা
দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, ইইউর সিভিল প্রোটেকশন মেকানিজম সক্রিয় করা হয়েছে। চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকে দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারসহ অতিরিক্ত সহায়তা আসছে।
সূত্র: বিবিসি।