ঢাকাবুধবার , ৪ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. জনস্বাস্থ্য

পিত্তথলি বনাম কিডনি: কোন পাথরটি বিপজ্জনক?

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৬ নভেম্বর ২০২৫, ২:৩৭ বিকাল

Link Copied!

শরীরের ভিতরে কী ঘটছে তা সবসময় বোঝা সহজ নয়। কখনও পেটে হঠাৎ ব্যথা বা অস্বস্তি কম গুরুত্ব দেওয়া হলেও, যদি ব্যথা তীব্র বা স্থায়ী হয়, তা সিরিয়াস সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। দুইটি সাধারণ কারণ যা তীব্র পেটের ব্যথার কারণ হতে পারে, তা হলো পিত্তথলির পাথর এবং কিডনিতে পাথর। যদিও উভয় ক্ষেত্রেই শরীরে “পাথর” তৈরি হয়, তবে অবস্থান, কারণ এবং লক্ষণগুলো আলাদা। সঠিকভাবে পার্থক্য বোঝা জরুরি, যাতে প্রাথমিকভাবে সতর্কতা নেওয়া যায়।

পিত্তথলির পাথর কী?

পিত্তথলির পাথর হল ছোট বা বড় কঠিন কণা যা লিভারের নিচে অবস্থিত পিত্তথলিতে তৈরি হয়। পিত্ত হল একটি হজম তরল, যা চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে।

এই পাথরের প্রধান কারণগুলো হলো: পিত্তে উচ্চ কোলেস্টেরল, অতিরিক্ত বিলিরুবিন, পিত্তথলির দুর্বল খালিকরণ।

লক্ষণ: পেটে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, বিশেষ করে ডান দিক বা মধ্যবর্তী অংশে, পিঠ বা ডান কাঁধে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি, চর্বিযুক্ত খাবারের পরে বদহজম, পেট ফাঁপা বা গ্যাস।

পিত্তথলির পাথর প্রায়শই নীরবে বিকশিত হয়, কিন্তু যখন পিত্ত নালীগুলো ব্লক হয়, তখন এই লক্ষণগুলো দেখা দেয়। সাধারণত, পিত্তথলির ব্যথা তরঙ্গ আকারে আসে এবং কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮০% পিত্তথলির পাথর কোলেস্টেরল দ্বারা তৈরি। কোলেস্টেরল স্ফটিকের উপস্থিতি পাথর গঠনের পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে।

কিডনিতে পাথর কী?

কিডনিতে পাথর হল খনিজ ও লবণের জমা, যা কিডনিতে তৈরি হয় এবং প্রায়শই মূত্রনালীর মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করে। এটি প্রায়শই তীব্র ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সাধারণ কারণ: ডিহাইড্রেশন, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, গাউট বা অন্যান্য চিকিৎসাগত অবস্থা।

লক্ষণ: প্রস্রাবে রক্ত দেখা, বমি বমি ভাব বা বমি, ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতা, পিঠ, পাশে বা তলপেটে তীব্র, ক্র্যাম্পিং ব্যথা।

কিডনিতে পাথরের ব্যথা, যা কখনও কখনও রেনাল কোলিক নামে পরিচিত, সবচেয়ে তীব্র ব্যথার মধ্যে একটি।

গবেষণা প্রমাণ করেছে, পর্যাপ্ত হাইড্রেশন কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। বেশি তরল পান করলে প্রস্রাব পাতলা হয় এবং স্ফটিক তৈরি হয় না। তবে সব জল সমান নয় – কম ক্যালসিয়ামযুক্ত জল পান সবচেয়ে নিরাপদ।

কীভাবে কিডনিতে পাথর এড়ানো যায়: দিনে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন, যাতে প্রস্রাব হালকা ও পরিষ্কার থাকে, উচ্চ-সোডিয়ামযুক্ত খাবার (টিনজাত, প্রক্রিয়াজাত) কমান, প্রাণীজ প্রোটিন (লাল মাংস, হাঁস-মুরগি, মাছ) সীমিত করুন, নিয়মিত হাইড্রেশন বজায় রাখুন এবং স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখুন।

যদি হঠাৎ বা ক্রমবর্ধমান পেটের ব্যথা অনুভব করেন, তা হালকাভাবে না নিয়ে সঠিকভাবে পরীক্ষা করুন। পিত্তথলির বা কিডনির পাথর, যেটি দ্রুত সনাক্ত করা যায়, তা সময়মতো চিকিৎসা করলে গুরুতর জটিলতা এড়ানো সম্ভব। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই রোগ প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

নওগাঁয় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ব্যাংক কর্মচারীর মৃত্যু

সপ্তাহজুড়ে কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া? জানাল অধিদপ্তর

স্তনবৃন্তে স্পর্শ করলেই কেন হঠাৎ মন খারাপ, কী এই ‘স্যাড নিপল সিনড্রোম’?

upay Rewards Three Distributor Partners with Umrah Packages under ‘Shopner Umrah 2026’ Campaign

উপায়ের ‘স্বপ্নের ওমরাহ’ ক্যাম্পেইনে পুরস্কার পেলেন ৩ ডিস্ট্রিবিউশন পার্টনার

সাতক্ষীরায় ৭৫ শতাংশ জলবায়ু বাস্তুচ্যুত পরিবার তীব্র খাদ্য সংকটে

মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৪

হাসপাতাল নেই ৬০ গ্রামে, অসুস্থ হলে আট ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি

চাঁদপুরে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারে ৬ যানবাহনকে জরিমানা

ঢাকায় শুষ্ক আবহাওয়া, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা

বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু রক্ষায় ১২ সংস্থার সঙ্গে ইউএনডিপির চুক্তি

সড়ক দুর্ঘটনার আচরণগত ঝুঁকি নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাথে মতবিনিময় সভা