
টানা বৃষ্টিপাতের ফলে দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে হঠাৎ করেই তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে ওঠানামা করছে, যা মৌসুমি গড়ের চেয়ে প্রায় ৩ ডিগ্রি কম।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় ২২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে বলে জানিয়েছেন তেঁতুলিয়ার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা সামিউজ্জামান।
পঞ্চগড় আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েকদিনে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এ অঞ্চলে ঠাণ্ডার অনুভূতি বেড়েছে। সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে, কিন্তু এ বছর কিছুটা আগেই শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ বর্তমানে উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ও আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা হ্রাস পাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সকালে হালকা কুয়াশার মতো আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে। নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “হঠাৎ করে সকালগুলো ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগছে। অনেকে ইতোমধ্যেই গরম কাপড় বের করে পরতে শুরু করেছেন।” তেঁতুলিয়ার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ জানান, “আগে রাতে ফ্যান ছাড়া ঘুমানো যেত না। এখন তো কম্বল দিতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, শীত এবার একটু আগেই চলে এসেছে।”
আবহাওয়াবিদদের মতে, এই আবহাওয়াকে এখনও শীতের শুরু বলা না গেলেও, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক আবহাওয়ার আচরণ ইঙ্গিত দিচ্ছে- চলতি বছর শীত কিছুটা আগেই অনুভূত হতে পারে।
সামিউজ্জামান বলেন, “গত তিন দিন ধরে ঘন মেঘলা আকাশ, টানা বৃষ্টিপাত এবং উত্তর দিক থেকে ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে গেছে এবং মানুষের মধ্যে শীতের প্রাথমিক অনুভূতি শুরু হয়েছে।”
তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় – দেশের সর্বউত্তরের এই সীমান্তাঞ্চল প্রায় প্রতিবছরই প্রথমে শীতের ছোঁয়া পায়। তবে এবারের আগাম শীতের বার্তা স্থানীয়দের যেমন চমকে দিয়েছে, তেমনি কৃষকদের মাঝেও স্বস্তি ও উদ্বেগ-দুই অনুভূতিই সৃষ্টি করেছে।